এসআইআর-এর পর মিজোরামের ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৪৬,১৯১ হাজার নাম
আইজল, ২৯ জুন (হি.স.) : মিজোরামে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে ৪৬,১৯১ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এসআইআর-এর পর এখন রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা হয়েছে ৮,২৮,৮৭৭। এসআইআর কর্মসূচির বলে ভোটার তালিকার গণনাপত্র ১০০
এসআইআর_প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র


আইজল, ২৯ জুন (হি.স.) : মিজোরামে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে ৪৬,১৯১ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এসআইআর-এর পর এখন রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা হয়েছে ৮,২৮,৮৭৭। এসআইআর কর্মসূচির বলে ভোটার তালিকার গণনাপত্র ১০০ শতাংশ ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন করে দেশের ১৬টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিজোরাম। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ২৮ জুনের সময়সীমার তিন দিন আগেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রাজ্যের যুগ্ম মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এথেল রোথাংপুই জানান, গত ২০ মে শুরু হয়েছিল ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্ষেপে এসআইআর)। নিৰ্ধারিত সময়ের তিনদিন আগে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিজিটালাইজেশনের কাজ শেষ হয়েছে। ১,৩০১ জন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) ভোটার গণনার কাজ করেছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া সমস্ত গণনাপত্র ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মোট ৪৬,১৯১ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে ২১,২৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ১৩,৯৯২ জন স্থায়ীভাবে অন্য রাজ্য বা বিদেশে চলে গিয়েছেন, ৮,৩৫২ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ২,২৪৫ জনের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাম নথিভুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

তিনি জানান, ২০০৫ সালের শেষ এসআইআর-এর সময় মিজোরামে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫.৫৯ লক্ষের বেশি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৮.৭৫ লক্ষের বেশি হয়েছিল। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪.২৩ এবং মহিলা ভোটার ৪.৫১ লক্ষের বেশি।

যুগ্ম মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসের দরুন ৩২৯ জন যোগ্য ভোটার এবারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত বা পুনর্নিবন্ধন করতে অস্বীকার করেছেন। এঁরা হয় ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অথবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম আগের সংশোধন প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত ছিল। তাঁদের বক্তব্য, বাইবেলে উল্লেখিত ‘নাম্বার অব দ্য বিস্ট’ (৬৬৬)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই নাকি তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খসড়া ভোটার তালিকা আগামী ৪ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এর পর ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ভোটাররা দাবি ও আপত্তি জানাতে পারবেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান যুগ্ম মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এথেল রোথাংপুই।

এদিকে দক্ষিণ মিজোরামের চাকমা অধ্যুষিত এলাকাগুলির ভোটার তালিকা বিস্তারিতভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে মিজো জিরলাই পওল (এমজেডপি)। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ওই অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা ১২১ শতাংশ বেড়েছে এবং নতুন ৯৭টি গ্রামের উদ্ভব হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুগ্ম মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এথেল রোথাংপুই আশ্বাস দিয়ে জানান, মিজো জিরলাই পওল-এর উত্থাপিত উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande