ধেমাজির বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, দুর্যোগকালে অসমের মানুষ কখনও একা নন : প্ৰদেশ বিজেপি
- যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা - সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যাঁদের গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাঁদেরও ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে সরকার গুয়াহাটি, ২৯ জুন (হি.স.) : ধেমাজি জেলায় সৃষ্ট ভয়াব
ধেমাজি জেলায় প্রলয়ঙ্করী বন্যা


- যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা

- সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যাঁদের গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাঁদেরও ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে সরকার

গুয়াহাটি, ২৯ জুন (হি.স.) : ধেমাজি জেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দুৰ্গত মানুষ কখনও একা নন। ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে এবং এই কঠিন সময়েও একই দায়বদ্ধতার সঙ্গে বন্যাদুর্গত মানুষের সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত জলপ্ৰবাহের ফলে ধেমাজি জেলার জোনাই, চিচিবরগাঁও, ধেমাজি এবং গোগামুখ রাজস্ব চক্রের গ্রামের পর গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে। বিশেষ করে জোনাই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চিমেনমুখ, আনন্দনগর, শিলাপথার, জোনাই সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

প্ৰদেশ বিজেপির মিডিয়া প্যানেলিস্ট প্রিয়াঙ্কা তামুলি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসমের মানুষ নিশ্চিত থাকতে পারেন, এই দুর্যোগের সময় তাঁরা কখনও একা নন। বিজেপি সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে টেলিফোনে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, অসমের মানুষের দুঃখ-কষ্টে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা সমানভাবে উদ্বিগ্ন ও দায়বদ্ধ।

মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রেখে অবিলম্বে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অসম সরকারের মন্ত্রী কেশব মহন্ত এবং সুশান্ত বড়গোহাঁই দ্রুত ধেমাজিতে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়েছেন।

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে মন্ত্রী কেশব মহন্ত জানান, যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যাঁরা গবাদিপশুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদেরও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

এদিকে, লখিমপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রদান বরুয়া, জোনাইয়ের বিধায়ক ভূবন পেগু, ডিব্রুগড়ের বিধায়ক প্রশান্ত ফুকন এবং চিচিবরগাঁওয়ের বিধায়ক জীবন গগৈও বন্যাকবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে স্থানীয় মানুষের সমস্যার খোঁজখবর নেন।

চিমেনমুখ, আনন্দনগর সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে গিয়ে মন্ত্রী ও বিধায়করা নদীভাঙন, বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ শিবিরগুলি পরিদর্শনের পাশাপাশি দুর্গত পরিবারগুলির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা পরিষেবা এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক সুবিধা যাতে সময়মতো পৌঁছে দেওয়া যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফ-এর সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান পূর্ণোদ্যমে চলছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ শিবির পরিচালনা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানান প্রিয়াঙ্কা তামুলি।

এই সংকটকালে প্ৰিয়াঙ্কা জোর দিয়ে বলেন, অসমের মানুষের সুরক্ষা, মর্যাদা ও কল্যাণই বিজেপি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রত্যেক কাৰ্যকৰ্তার সমন্বিত প্রচেষ্টাই বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বস্তি ও সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande