
শিলচর (অসম), ৩০ জুন (হি.স.) : মাদকাসক্তি ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বরাক উপত্যকাকে জাগ্ৰত হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে শিলচরে অনুষ্ঠিত নেশা ও অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশের নবপ্রজন্মকে বিনষ্ট করার চক্রান্ত থেকে মুক্তির অন্যতম পথ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর পঞ্চকোষের বিকাশচর্চা আয়োজিত মাদকবিরোধী সন্মেলন থেকে।
আজ মঙ্গলবার শিলচর গান্ধী ভবন প্রেক্ষাগৃহে মনমোহন কলেজ এবং এনএসএস ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সচেতনতা কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নেশার বিরুদ্ধে বরাক উপত্যকাকে জাগতে হবে। সম্মেলনে বরাক উপত্যকায় মাদকাসক্তি ও পাচারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বছর আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের মূল ভাবনা ছিল, ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা : পুরনো ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী সমাধান’। উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা ভারতকে মাদকমুক্ত করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্ৰধান অতিথি শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যের সামনে বক্তারা তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে বরাকের শহরাঞ্চলের অলি-গলির মোড়ে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কুপ্রভাবে অসামাজিক কার্যকলাপও বাড়ছে, যা সুস্থ সমাজের জন্য অশনি সংকেত। স্কুল-কলেজের ছাত্ররাই মূলত টার্গেটে পরিণত হচ্ছে।
সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেন, নেশামুক্ত সমাজ গঠন এবং নিজ-সন্তানদের সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের। তিনি বলেন, মাদকাসক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে এইচআইভি-র মতো জটিল সংক্রামক রোগ এবং সড়ক দুর্ঘটনার হার। এমতাবস্থায় অভিভাবক ও সমাজসচেতন নাগরিকদের নজরদারি আরও কঠোর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সাংসদ।
সম্মেলনে বক্তারা সাংসদের কাছে দৃষ্টান্তমূলক তৎপরতার আবেদন জানিয়ে বলেন, সচেতনতা আর প্রশাসনিক স্তরে ও কঠোর পদক্ষেপের আবশ্যকতা রয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নিরঞ্জন রায়, অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দিপেন্দু দাস, সঞ্জীত দাস, মনোজ ঘোষ, অনুপকুমার দত্ত সহ শিক্ষা ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্টজনেরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস