অসমের বার্ষিক বন্যা সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার : প্ৰদেশ বিজেপি
- গত পাঁচ বছরে রাজ্যে নতুন করে প্রায় ৭০০.৩ কিলোমিটার বাঁধ নিৰ্মাণ, পূর্ববর্তী ৫৪০.২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার, ৩২০.৩ কিমি এলাকাজুড়ে প্রায় ২৮০টি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প এবং নির্মিত ৪৩টি নতুন স্লুইস গেট - সাম্প্রতিক বন্যায় রাজ্যের মোট ১,২৪০.৫ কিল
নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প (ফাইল ফটো)


- গত পাঁচ বছরে রাজ্যে নতুন করে প্রায় ৭০০.৩ কিলোমিটার বাঁধ নিৰ্মাণ, পূর্ববর্তী ৫৪০.২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার, ৩২০.৩ কিমি এলাকাজুড়ে প্রায় ২৮০টি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প এবং নির্মিত ৪৩টি নতুন স্লুইস গেট

- সাম্প্রতিক বন্যায় রাজ্যের মোট ১,২৪০.৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে মাত্র একটি স্থানে ভেঙেছে, দাবি

গুয়াহাটি, ৩০ জুন (হি.স.) : অসমের প্রতিবছরের বন্যা সমস্যা শুধু রাজ্যের নিজস্ব সমস্যা নয়, হিমালয় পর্বতমালা থেকে নেমে আসা নদীগুলির জন্য সৃষ্ট এক বৃহত্তর ভৌগোলিক সমস্যা। গত প্রায় সাত দশক ধরে অসমের বন্যা মোকাবিলায় সরকারগুলির গৃহীত পদক্ষেপ মূলত বাঁধ নির্মাণ, নির্দিষ্ট স্থানে নদী খনন, পুনর্বাসন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এ সম্পর্কে প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র মিতা নাথ বরুয়া বলেন, অসমের বন্যা সমস্যার পেছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তিব্বত থেকে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র পৃথিবীর অন্যতম সর্বাধিক পলি ও পাথরের গাদ বহনকারী নদী। নদীর তলদেশে বিপুল পরিমাণ পলি জমে যাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র এবং তার উপনদীগুলির তলদেশ ক্রমশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় নদীগুলির জল ধারণক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

মিতা নাথ বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভুটানের পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকে ৫০-এর বেশি নদী অসমের বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্ষাকালে আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে এই নদীগুলি খুব অল্প সময়ে তাদের বহনক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি জল ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নিয়ে আসে। যার ফলে রাজ্যকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের গতিপথের ঘনঘন পরিবর্তন এবং নদীভাঙনের দরুন প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বিজেপির মুখপাত্র মিতা বলেন, অসমে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশ, ভুটান এবং তিব্বতে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বর্ষাকালে, বিশেষ করে গুয়াহাটি মহানগরে জলাবদ্ধতা ও কৃত্রিম বন্যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, চীন, ভুটান এবং স্বাধীনতার পর ভারতে নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা প্রকল্পের নিম্ন অববাহিকায় সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অসমকে তার বিরূপ প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে। যদি উজানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে বহুমুখী প্রকল্প হিসেবে নির্মাণ করা হতো, তা-হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণেও সেগুলি কিছুটা হলেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত।

মিতা নাথ বরুয়া জানান, রাজ্যের মোট ভূমির প্রায় ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩১.০৫ লক্ষ হেক্টর এলাকা বন্যাপ্রবণ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বাঁধগুলিকে আরও শক্তিশালী করে পুনর্নির্মাণ করে সেগুলিকে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে। এর ফলে বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে।

গত পাঁচ বছরে রাজ্যে নতুন করে প্রায় ৭০০.৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পূর্ববর্তী ৫৪০.২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। যার ফলে বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ৩২০.৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ২৮০টি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ৪৩টি নতুন স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলির ফলেই সাম্প্রতিক বন্যায় রাজ্যের মোট ১,২৪০.৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে মাত্র একটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে বলে দাবি করেন মিতা নাথ বরুয়া। তিনি আরও জানান, বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘দ্য আসাম ইন্টিগ্রেটেড রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’, ‘দ্য ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ব্রহ্মপুত্র ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড অ্যান্ড রিভার ইরোশন ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’ এবং ‘ন্যাশনাল হাইড্রোলজি প্রজেক্ট’।

এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে নদীর জলসম্পদের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং আগাম বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মিতা নাথ বরুয়া বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলির প্রচলিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমান বিজেপি সরকার বৈজ্ঞানিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বন্যা ও নদীভাঙনের ফলে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande