
দুর্গাপুর, ২৯ জুন (হি.স.) : সরকার পরিবর্তনের পরও পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদে অবৈধ বালি পাচার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। চালান ছাড়া, জাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ চালান এবং ওভারলোডিং করে বালি পরিবহনের অভিযোগে সোমবার বুদবুদের সাধুনগর গেট এলাকায় ১১টি বালি বোঝাই লরি ও ডাম্পার আটক করে গলসি-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার (বিএলআরও) দফতর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবৈধ বালি পাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশের তরফে জাতীয় সড়কে থানা-ভিত্তিক নাকা চেকপোস্ট ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়েই রাতভর ওভারলোড বালি বোঝাই লরি চলাচল করছে। অভিযোগ, গলসীর দামোদর নদীর শিকারপুর, শিল্ল্যাঘাট ও সোদপুরের বৈধ বালিঘাট থেকে রাত নামলেই অতিরিক্ত বালি বোঝাই করে লরি ও ডাম্পার বেরিয়ে পড়ে। সেই বালি মূলত পানাগড় ও বুদবুদের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প, এমনকি পানাগড় সেনাছাউনির নির্মাণকাজেও সরবরাহ করা হয়।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ছয় চাকার লরিতে সর্বাধিক ১২ টন, ১০ চাকার লরিতে ২০ টন এবং ১২ চাকার লরিতে ২৫ টন পর্যন্ত পণ্য বহনের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, মুনাফার লোভে অনেক ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ টন পর্যন্ত বালি বোঝাই করে লরি চলাচল করছে। এসব লরির উপরিভাগ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে বোঝা না যায়।
বিজেপির অভিযোগ, ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩০-৪০টি বালি বোঝাই লরি ও ডাম্পার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সাধুনগর সার্ভিস লেন এবং বুদবুদ বাইপাসের আন্ডারপাস এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকে। অধিকাংশ গাড়িতেই বৈধ চালান নেই। কোথাও চালানের মেয়াদ শেষ, কোথাও অন্য রুটের চালান ব্যবহার করা হয়েছে, আবার অনেক চালানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা অভিযোগ করেন, কোনও বৈধ নথি ছাড়াই প্রতিদিন বালি পাচার হচ্ছে। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ আবাস নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত বালি পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, সরকার বদলালেও বালি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং তারা গোপনে আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, গলসি-১ ব্লকের বিএলআরও প্রণব কুমার কর্মকার জানান, মোট ১১টি বালি বোঝাই গাড়ি আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, কয়েকটি গাড়ির চালানের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, কয়েকটি গাড়ি ওভারলোড ছিল, কিছু গাড়িতে কোনও চালানই ছিল না এবং কয়েকটিতে অন্য রুটের চালান ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। গাড়ির মালিকদের নোটিশ পাঠানো হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা ধার্য করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওভারলোড বালি বোঝাই লরি চলাচলের ফলে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ বসে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও উঁচু-নিচু হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারবহন ক্ষমতার বহু গুণ বেশি ওজন নিয়ে লরি চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে তাঁদের দাবি।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা