
কাসগঞ্জ, ২৯ জুন (হি.স.) : উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় সোমবার বিকেলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়ে। আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাই টেনশন বিদ্যুতের তারে ধাক্কা মারার পর নির্মীয়মাণ বরেলি-মথুরা জাতীয় সড়কের ধারে বিমানটি আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিমানে থাকা মহিলা প্রশিক্ষার্থী পাইলট। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কাসগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ আলিগড় জেলার ধনীপুর এয়ারস্ট্রিপ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড়ানে রওনা দেয় দুই আসনের প্রশিক্ষণ বিমান ভিটি-এএফবি। বিমানটি কাসগঞ্জ জেলার পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি নির্মীয়মাণ বরেলি-মথুরা সড়কের পাশে ভেঙে পড়ে।
আহত পাইলটের নাম কায়নাত কাদির খান (২৭)। তিনি মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের পাওয়াই বিহার এলাকার বাসিন্দা এবং ধনীপুর এয়ারস্ট্রিপে পাইলট প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ, প্রশাসন, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুল্যান্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বিমানের ভেতর থেকে কায়নাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ধনীপুর এয়ারস্ট্রিপের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অনিল কুমার জানান, বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড়ানে ছিল এবং সেটি কায়নাত নিজেই চালাচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আকাশে পথভ্রষ্ট হয়ে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং পরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার খবর সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিমানটি আচমকাই দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। মাটিতে পড়ার আগে সেটির সামনের অংশ হাই টেনশন বিদ্যুতের তারে ধাক্কা মারে। এরপর সেটি নির্মীয়মাণ রাস্তার কাঁচা মাটির উপর আছড়ে পড়ে। রাস্তার কাজ চলায় সেখানে নরম মাটি থাকায় বিমানটিতে আগুন লাগেনি। ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয় এবং পাইলটের প্রাণ রক্ষা পায়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য