
কলকাতা, ২৯ জুন (হি.স.): জোড়া ওবিসি আইন সংশোধনী বিল পেশ বিধানসভায়। বিল দু’টির নাম – ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান এসসি অ্যান্ড এসটি) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। পেশ করলেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। ১৮৬টি ভোটে এই বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। কালীঘাট তৃণমূল, বিদ্রোহী তৃণমূল ও বিরোধীরা মিলিয়ে মোট ১৭ জন এই বিলের বিরোধিতা করে ভোটদান করেন।
তবে এই বিলের বিরোধিতা করে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, আমি প্রথমেই এই বিলের বিরোধিতা করছি। কারণ কোনও না কোনও জায়গায় এই সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ তারা হিংসাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। আমি আগেও বলেছি, তাদের ধর্মীয় পরিচয় না দেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কমিশনের গাইডলাইনকে মান্যতা দিয়ে তালিকা তৈরি হোক। তার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। বিলের বিরোধিতা করে প্রশ্ন তোলেন জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলি। তাঁর প্রশ্ন, আমি সরকারকে প্রশ্ন করতে চাই, যখন ভারতের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কমিশন বছরের পর বছরের ধরে বলে এসেছে, সমাজের এমন একটি গোষ্ঠী অনগ্রসর তখন সরকার কোন বৈজ্ঞানিক নীতির ভিত্তিতে এমন একটি সংশোধনী আনছে? বহু অনগ্রসর সম্প্রদায় তাদের সংরক্ষণের সুবিধা হারানোর আশঙ্কা করেছে, সরকার কি এই সংশোধনী আনার আগে আদৌ কোনও সমীক্ষা করেছে?
ওবিসি সংরক্ষণের জন্য ক্যাটেগরি ‘এ’-র আওতায় মোট ৬৫টি জনগোষ্ঠী রয়েছে। তৃণমূল জমানায় তৈরি আইনে ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রয়েছে ৭৮টি জনগোষ্ঠী। সেই তালিকা সম্বলিত তফশিল বা ‘সিডিউল ওয়ান’ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন বিলে। পাশাপাশি অনগ্রসর কমিশনে কোনও গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওবিসি-র আওতায় হিন্দুদের নানা গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে মুসলিমদের কেন ‘বাড়তি সুবিধা’ দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন আগেই তুলেছিল বিজেপি। এ বার ওই তালিকার আইনি স্বীকৃতি বাতিলের পথে গেল তাদের সরকার।
উল্লেখ্য, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ চালু করে বামফ্রন্ট সরকার। কে, কতটা পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসরতার নিরিখে দু’টি ক্যাটেগরি (এ এবং বি) চালু করা হয়। দুই ক্যাটেগরির জন্য যথাক্রমে ১০ ও ৭ শতাংশ সংরক্ষণ ধার্য করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে ওই আইন সংশোধন করে মমতা সরকার। তখন ক্যাটেগরি ‘এ’-র মধ্যে ৬৫টি এবং ক্যাটেগরি ‘বি’-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা জোড়া হয়। তফশিলি জাতি থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদেরও ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রাখা হয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ