
কলকাতা, ২৯ জুন (হি.স.) : ইস্পাত ও পাটশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি, অধিকার সুরক্ষা এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সোমবার কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইস্পাত ও পাটশিল্পের ওয়েজ এগ্রিমেন্ট বা মজুরি চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের স্বাভাবিক উৎপাদন, কর্মপরিবেশ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। এদিন সরকার, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও ইস্পাত ও পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, মজুরি কাঠামো, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ শ্রমনীতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় সকল পক্ষই মত প্রকাশ করেন যে, শিল্প ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়, আবার শিল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও সংকটের মুখে পড়বে। তাই এমন একটি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি চুক্তির প্রয়োজন, যাতে শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার পান এবং শিল্পের বিকাশও অব্যাহত থাকে।
বৈঠকে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, ওয়েজ এগ্রিমেন্টে স্বচ্ছতা, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিক-শিল্পপক্ষের সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত প্রতিনিধিরা বলেন, নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তবেই শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব।
বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইস্পাত ও পাটশিল্প পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা যাতে সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি পান, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দ্রুত একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ওয়েজ এগ্রিমেন্ট কার্যকর করার দিকেই সরকার এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে উপস্থিত বিধায়ক ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিরাও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁদের মতে, এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও শ্রমিকবান্ধব নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য