ধেমাজির বন্যা পরিস্থিতি জানতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তকে ফোন অমিত শাহের, সবরকম সহায়তার আশ্বাস
- বন্যায় জেলার চারটি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৬৯টি গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত - আর্চিপথার ও সিমেন চাপরি রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী একটি রেলসেতুর পিলার ক্ষতিগ্রস্ত, সাময়িক বন্ধ ট্ৰেন পরিষেবা গুয়াহাটি, ২৯ জুন (হি.স.) : ধেমাজি জেলায় সৃষ্ট প
ধেমাজি জেলায় প্রলয়ঙ্করী বন্যা


জলের তোড়ে বিধ্বস্ত লোহার ব্রিজ


- বন্যায় জেলার চারটি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৬৯টি গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

- আর্চিপথার ও সিমেন চাপরি রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী একটি রেলসেতুর পিলার ক্ষতিগ্রস্ত, সাময়িক বন্ধ ট্ৰেন পরিষেবা

গুয়াহাটি, ২৯ জুন (হি.স.) : ধেমাজি জেলায় সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে আড সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে ফোন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বন্যা-কবলিত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিজের অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এই তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. বলেন, ধেমাজিতে চলমান ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহজি ধেমাজির বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ফোন করেছিলেন। আমি তাঁকে চলমান ত্রাণ ও উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেছি। তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

এদিকে অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর জারিকৃত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ধেমাজি জেলার চারটি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৬৯টি গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জেলার বন্যা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য রাজ্য সরকার সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগিয়েছে।

এছাড়া জলসম্পদ মন্ত্রী সুশান্ত বরগোহাঁই এবং রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কেশব মহন্তকে ধেমাজিতে অবস্থান করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, ভারী বৃষ্টি ও নদীভাঙনের জেরে আর্চিপথার ও সিমেন চাপরি রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী একটি রেলসেতুর পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবা।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও নদীভাঙনের ফলে সেতুর একটি পিলার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় মুরকংসেলেক-শিলাপথার রুটে ট্রেন চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনও ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতি বা যাত্রী হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় আগেই ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আপাতত ট্রেনগুলি শিলাপথার স্টেশন থেকেই ছাড়বে এবং সেখানেই যাত্রা শেষ করবে। মুরকংসেলেক ও শিলাপথারের মধ্যে যাত্রীদের জন্য বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া ধেমাজি, শিলাপথার এবং মুরকংসেলেক রেলস্টেশনে যাত্রীদের সহায়তার জন্য হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও অসম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande