
নয়াদিল্লি, ২৯ জুন (হি.স.) : জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি)-২০২০ অনুসারে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনুমোদিত স্কুলগুলিতে তিন-ভাষা নীতি কার্যকর করতে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। তবে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। তাঁরা আগের মতোই দুটি ভাষা নিয়ে বোর্ড পরীক্ষা দেবেন।
সোমবার সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে তিনটি ভাষা পড়তে হবে। এর মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা ভারতীয় ভাষা হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনও শিক্ষার্থী যদি ইতিমধ্যেই একটি ভারতীয় ভাষা এবং একটি বিদেশি ভাষা পড়ে, তবে তৃতীয় ভাষা হিসেবে তাকে একটি ভারতীয় ভাষা বেছে নিতে হবে। যাঁরা বর্তমানে দুটি বিদেশি ভাষা পড়ছেন, তাঁদের জন্য এককালীন বিশেষ ছাড় হিসেবে ওই দুটি বিদেশি ভাষার পাশাপাশি একটি ভারতীয় ভাষা যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বোর্ড আরও স্পষ্ট করেছে, বর্তমানে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন শুধুমাত্র স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে হবে। তাঁরা দশম শ্রেণিতে উঠলেও তৃতীয় ভাষার জন্য সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না।
তবে বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির (২০২৬-২৭ ব্যাচ) এবং পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন-ভাষা নীতি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে। তাঁদের দশম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষার বোর্ড পরীক্ষাও দিতে হবে। এ জন্য এনসিইআরটি সংবিধানের অষ্টম তফসিলভুক্ত ২২টি ভারতীয় ভাষায় প্রয়োজনীয় পাঠ্যসামগ্রী প্রস্তুত করছে।
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও দিয়েছে সিবিএসই। দিব্যাঙ্গ শিক্ষার্থী, ভারতের বাইরে অবস্থিত সিবিএসই-স্বীকৃত স্কুলের পড়ুয়া এবং বিদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভারতীয় ভাষা পড়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া, অভিভাবকের অন্য রাজ্যে বদলি হলে শিক্ষার্থীরা পূর্বে নির্বাচিত ভাষার সংমিশ্রণ বজায় রাখতে পারবে।
প্রয়োজনীয় ভাষাশিক্ষক নিয়োগে স্কুলগুলিকে নমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সিবিএসই। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ বিদ্যমান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, সহোদয় স্কুলগুলির মাধ্যমে শিক্ষক ভাগাভাগি এবং ভার্চুয়াল বা হাইব্রিড শিক্ষাদান ব্যবস্থা। বোর্ডের বক্তব্য, এনইপি-২০২০ অনুযায়ী বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং কোনও শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য