
ঝাড়গ্রাম, ২৯ জুন (হি.স.) : উদ্বোধনের আগেই বিপত্তি। ঝাড়গ্রাম শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত কুড়মি ভবনের সামনের অংশের একটি কংক্রিটের অলংকরণ আচমকাই ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়া অংশটি পাশের একটি ট্রান্সফরমারের উপর গিয়ে পড়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
ঘটনার পর থেকেই নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কুড়মি সংগঠনের নেতৃত্ব এবং সম্প্রদায়ের বহু মানুষের দাবি, ভবনটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। তার আগেই এভাবে কংক্রিটের অংশ ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্মাণে কোনও গাফিলতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রাম জেলা গঠনের পর কুড়মি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুড়মি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেন। সেই অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বোর্ড গঠিত হয়। পরে ঝাড়গ্রাম শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩৩ ডেসিমেল জমির উপর প্রায় ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রাচীর-সহ একটি দ্বিতল কুড়মি ভবন নির্মাণ করা হয়।
ভবনের মূল নির্মাণকাজ গত বছরই শেষ হলেও সামনের অংশে কংক্রিটের অলংকরণ বা নকশার কাজ চলছিল। জানা গিয়েছে, নির্মীয়মাণ সেই অংশই আচমকা ভেঙে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে কুড়মি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল বোর্ডের প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট রথীন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, “মূল ভবনের কোনও ক্ষতি হয়নি। সামনের নকশার একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। এই কাজের টেন্ডার বোর্ড করেনি। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতর টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করিয়েছে এবং সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের নকশা মেনেই নির্মাণ হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল না।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ভবনটি উদ্বোধনের আগেই এমন ঘটনা নির্মাণের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে প্রযুক্তিগত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো