ফটিকরায়ে ২৭১ কেজি গাঁজা উদ্ধার, বিলাসবহুল গাড়িসহ গ্রেফতার ২
ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ২৯ জুন (হি.স.) : নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের মাঝেই ফের বড়সড় মাদক পাচারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থানার পুলিশের তৎপরতায় বিলাসবহুল একটি এক্সইউভি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়
গাঁজা উদ্ধার


ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ২৯ জুন (হি.স.) : নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের মাঝেই ফের বড়সড় মাদক পাচারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থানার পুলিশের তৎপরতায় বিলাসবহুল একটি এক্সইউভি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৭১ কেজি শুকনো গাঁজা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক কালোবাজারি মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা। ঘটনায় দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কমলপুরের দুর্গা চৌমুহনী নাকা পয়েন্টে সোমবার নিয়মিত তল্লাশির সময় টিআর০১এন-৩৯৫৭ নম্বরের একটি বিলাসবহুল গাড়িকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। অভিযোগ, গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি নিজেদের শাসকদলের মণ্ডল সভাপতি পরিচয় দিয়ে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর সঙ্গে সঙ্গেই ওয়্যারলেস মারফত আশপাশের থানাগুলিতে পাঠানো হয়। এরপর ফটিকরায় থানার ডেমডুম নাকা পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিছুক্ষণ পর ওই গাড়িটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ ফের থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযুক্তরা এবারও নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা চালায়। শুরু হয় ধাওয়া। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেডে ধাক্কা লেগে গাড়িটি থেমে গেলে পুলিশ গাড়িটি ঘিরে ফেলে।

এরপর গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক প্যাকেটে রাখা মোট ২৭১ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক কালোবাজারি মূল্য ১৫ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক উৎপলেন্দু দেবনাথ জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, গাঁজার চালানটি রাজ্যের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই মাদক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, ব্রাউন সুগারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে। একদিকে ত্রিপুরা থেকে বাইরে গাঁজা পাচারের চেষ্টা, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন মাদক রাজ্যে প্রবেশের ঘটনায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে একের পর এক সাফল্য মিললেও মাদক পাচারচক্র পুরোপুরি নির্মূল করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফটিকরায়ের এই ঘটনায় ফের স্পষ্ট হয়েছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে নেশামুক্ত ত্রিপুরার লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাচারচক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande