
আরামবাগ , ২৯জুন (হি.স.): দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে পথে নামলেন গোঘাট এলাকার গোলপুর মাঝপাড়ার বাসিন্দারা। সোমবার গোঘাট বিদ্যুৎ দফতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বহুবার মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, এমনকি লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে স্টেশন ম্যানেজারের কাছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সমস্যার কোনও কার্যকর সমাধান হয়নি।
গ্রামবাসীদের দাবি, এলাকায় সামান্য বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া কিংবা আকাশে মেঘ জমলেই বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা, কখনও তারও বেশি। ফলে নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম ও দাবদাহের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ফ্যান, পানীয় জল, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সমস্ত কাজকর্মই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। গ্রামবাসীদের কথায়, “গরমে ফ্যানের হাওয়াই যখন ঠিকমতো স্বস্তি দিতে পারছে না, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।”
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গোলপুর মাঝপাড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। সামান্য প্রাকৃতিক পরিবর্তনেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অথচ দ্রুত মেরামতির কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এই অব্যবস্থার অবসান ঘটাতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “শুধু আশ্বাস নয়, এবার স্থায়ী সমাধান চাই। বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগতে ভুগতে আমরা ক্লান্ত। বিদ্যুৎ আমাদের মৌলিক প্রয়োজন, তাই নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই অভিযোগের পর বিদ্যুৎ দফতর কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং গোলপুর মাঝপাড়ার বাসিন্দারা কবে এই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পান।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA