
আগরতলা, ২৯ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। গোলাঘাটি বিধানসভার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা লক্ষ্মীছড়া রামকৃষ্ণ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মৌলিক সমস্যার মধ্যে পড়াশোনা করছে পড়ুয়ারা বলে অভিযোগ উঠেছে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বসার জায়গার অভাব, পানীয় জলের অপ্রতুলতা এবং প্রাথমিক বিভাগে শিক্ষক সংকটের মতো একাধিক সমস্যায় বিদ্যালয়টি কার্যত জর্জরিত বলে দাবি তাঁদের।
সোমবার সকালে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে কোনও স্থায়ী ডাইনিং শেড বা নির্দিষ্ট বসার ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিনই ছাত্র-ছাত্রীদের খোলা আকাশের নিচে কিংবা গাছতলায় দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হচ্ছে। বর্ষাকালে কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অভিভাবকদের অভিযোগ, গাছের নিচে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়ার সময় থালায় পোকামাকড় পড়ার আশঙ্কাও থেকে যায়, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ে পানীয় জলেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। ফলে অধিকাংশ পড়ুয়াকেই বাড়ি থেকে পানীয় জল নিয়ে আসতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে ছোটদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগেও শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ, নার্সারি বিভাগের জন্য কোনও পৃথক শিক্ষক নেই। ফলে ওই বিভাগের শিশুদের বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই কক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে ছোট শিশুদের মানসম্মত ও বয়স উপযোগী শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিভাবকদের দাবি।
অভিভাবকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের এই সমস্যাগুলি বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা দফতর কিংবা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন ঘটেনি বলেও তাঁদের অভিযোগ।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিভাবকরা অবিলম্বে বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য স্থায়ী শেড নির্মাণ, পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, প্রাথমিক ও নার্সারি বিভাগে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগসহ সামগ্রিক শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবি জানান। তাঁদের আশা, রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দফতর দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ