চার বছরে ত্রিপুরায় সাইবার প্রতারণায় খোয়া গেছে ৮৩ কোটি টাকা
আগরতলা, ৩০ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকারের ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে নবগঠিত স্টেট সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে
পুলিশের মহানির্দেশক


আগরতলা, ৩০ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকারের ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে নবগঠিত স্টেট সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে মঙ্গলবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে রাজ্য সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় রাজ্যভিত্তিক পরামর্শমূলক কর্মশালা।

‘তথ্য সুরক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব জেকে সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধ্যানকর, তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের অধিকর্তা জেয়া রাগুল গেশান বি, প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক আরকে শ্যামল এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদরা।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর দেশজুড়ে সাইবার অপরাধের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালে সাইবার প্রতারণায় দেশের নাগরিকদের প্রায় ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০২৪ সালে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালেও সাইবার প্রতারণার ফলে ক্ষতির পরিমাণ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা দেশের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ত্রিপুরার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত চার বছরে রাজ্যের মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে মোট ৮৩ কোটি টাকা হারিয়েছেন। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এর মধ্যে ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ডিজিপি বলেন, সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার শিকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নাগরিকদের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ জানাতে হবে অথবা ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানাতে হবে। দ্রুত অভিযোগ জানানো হলে প্রতারিত অর্থ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, সাইবার অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় সরকার ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার গঠন করেছে। একইভাবে গত মাসে ত্রিপুরায় স্টেট সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার চালু হয়েছে। বর্তমানে এই দুই সংস্থা তথ্য আদান-প্রদান, প্রযুক্তিগত সহায়তা, তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্য সচিব জেকে সিনহা বলেন, ডিজিটাল পরিকাঠামো যত বিস্তৃত হচ্ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট করানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, সময়মতো নিরাপত্তা পরীক্ষা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা গেলে বহু সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কর্মশালায় বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা আধুনিক সাইবার হুমকি, তথ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আন্তঃদফতর সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

রাজ্য সরকারের মতে, ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande