
তিরুবনন্তপুরম, ৩০ জুন (হি.স.) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ক্যামেরা চালু হওয়ার পর কেরলমে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর হার কমেছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভায় 'সেফ কেরলম' প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরে পরিবহণমন্ত্রী সি.পি. জন বলেন, ২০২৩ সালে প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রবণতা বেড়েছে এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিন বিধানসভায় পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪৮,০৬৮। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪৯,৮৮৯। তবে একই সময়ে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪,০৮৪ থেকে কমে ৩,৭৩৩-এ নেমে এসেছে। এই সময়ে রাজ্যে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও মৃত্যুহার কমেছে। মন্ত্রীর দাবি, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধিই এর অন্যতম কারণ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোটরবাইক আরোহীদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের হার এবং চারচাকা গাড়ির যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং এআই ক্যামেরা-সংবলিত মোড়ে সিগন্যাল অমান্য করার ঘটনাও কমেছে। মন্ত্রী আরও জানান, ই-চালান ব্যবস্থা চালু হওয়ায় গাড়িচালক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বচসা কমেছে এবং নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের মধ্যে আরও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে উঠেছে।
তবে 'সেফ কেরলম' প্রকল্পটি রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তৎকালীন বিরোধী নেতা ভি.ডি. সতীশন ও রমেশ চেন্নিথলা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্টে কেরলম হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে জানায়, বিচারিক হস্তক্ষেপের মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি মামলায় নেই।
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে মোট ৭২২টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সম্প্রতি কেরলম হাইকোর্ট কেলট্রনের মাধ্যমে এসআরআইটি-র বকেয়া অর্থ দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থার দাবি, প্রকল্পে তারা মোট ১৫১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যার মধ্যে ৬ কোটি টাকা নিরাপত্তা আমানত হিসেবে জমা রয়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বহন করতে হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য