(আপডেট ) তৃণমূল আমলে প্রচুর ভুয়ো এসসি-এসটি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, যারা দিয়েছে ও নিয়েছে, সবাইকে জেলে যেতে হবে: মুকুটমণিপুরে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
বাঁকুড়া, ৩০ জুন (হি.স.) : তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো এসসি-এসটি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এই কাজে যারা যুক্ত ছিলেন এবং যারা ভুয়ো শংসাপত্র নিয়েছেন, প্রমাণিত হলে প্রত্যেককেই জেলে যেতে হবে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে রাজ্যস্তর
তৃণমূল আমলে প্রচুর ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট দিয়েছে, যারা দিয়েছে ও নিয়েছে, সকলকে জেলা যেতে হবে


বাঁকুড়া, ৩০ জুন (হি.স.) : তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো এসসি-এসটি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এই কাজে যারা যুক্ত ছিলেন এবং যারা ভুয়ো শংসাপত্র নিয়েছেন, প্রমাণিত হলে প্রত্যেককেই জেলে যেতে হবে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে রাজ্যস্তরের হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মঙ্গলবার এই প্রথম বাঁকুড়া সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুকুটমণিপুরের একলব্য মডেল স্কুল সংলগ্ন মাঠে রাজ্য আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হুল দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘন করে এসসি-এসটি সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করেছিল। যেখানে এসসি-এসটি সংরক্ষণ থাকার কথা, সেখানে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়ো ও জাল জাতিগত শংসাপত্রের ছড়াছড়িও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত অফিসার ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়েছেন এবং যারা সেই সার্টিফিকেট নিয়েছেন, তদন্তে প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড়া হবে না। সকলকেই জেলে যেতে হবে।

এদিন দুপুর প্রায় ২টায় মুকুটমণিপুরের স্থায়ী হেলিপ্যাডে চপারে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী সমাজের মা-বোনেরা তাঁকে ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী রীতিতে স্বাগত জানান। এরপর নবনির্মিত সিধু-কানহু মূর্তির আবরণ উন্মোচন করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তিনি। আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক তির-ধনুক তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানান রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আদিবাসী শিল্পী বিজলী মুর্মু নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। পরে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু হুল দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সিধু-কানহুদের বীরত্বগাথা তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৯৪৭ সালের পর আমরা বিকশিত ভারতের পথে এগোচ্ছি। হুল বিদ্রোহের নায়ক ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়ন, তাদের প্রতিষ্ঠা এবং জল-জমি-জঙ্গলের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী অলচিকি লিপিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আদিবাসীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই তাঁর আমলে পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসিয়ে আদিবাসী সমাজকে সম্মান জানিয়েছে বিজেপি সরকার। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছিল।

মুখ্যমন্ত্রী সকলকে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে ছত্তিশগড়, ওড়িশা-সহ তিনটি রাজ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মুখ্যমন্ত্রীরা বিজেপির নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা করছেন। পশ্চিমবঙ্গেও আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত তিনজন মন্ত্রী রয়েছেন। রাজ্যের ১৬টি সংরক্ষিত আসনের সবকটিতেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। পাশাপাশি একটি সাধারণ আসন থেকেও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিজেপি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আপনাদের এই আশীর্বাদের ঋণ শোধ করা আমাদের দায়িত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ জুলাই থেকে রাজ্যের এক কোটি কুড়ি লক্ষ মা-বোন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মহিলা রয়েছেন। শবর, মুন্ডা-সহ প্রাচীন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ধরতিবাবা উৎকর্ষ অভিযানের মাধ্যমে আদিবাসী উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি জানান, ক্রীড়া, বিভিন্ন ভাতা, সূর্য ঘর, জল জীবন মিশন এবং জয় জোহার প্রকল্পে সংরক্ষণ নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। জয় জোহার প্রকল্পে আপাতত ৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। লোকপ্রসার ভাতা এবং বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকরা ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ পাবেন। আগামী আগস্ট মাস থেকে আদিবাসী ছাত্রাবাসে থাকা পড়ুয়াদের জন্য মাসিক ভাতা ১,৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৩০০ টাকা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগের সরকার পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ করেনি। বর্তমান সরকার এবারের বাজেটে এই দফতরের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর ফলে পশ্চিমাঞ্চলের ৭৫টি ব্লকের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, জামশেদপুর শিল্পাঞ্চল থেকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের দূরত্ব কার্যত ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। পর্যটন-সহ তিনটি দফতরের সমন্বয়ে ঝাড়গ্রাম এলাকায় একটি উন্নত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। ঝাড়গ্রাম আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। আগামী দিনে মুকুটমণিপুরকে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার একাধিক বিধায়ক, সাংসদ এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande