অসমে বন্যা, ছয় জেলায় ২২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ধেমাজিতে ব্যাহত রেল যোগাযোগ
গুয়াহাটি, ৩০ জুন (হি.স.) : অসমে এবং প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে চলতি বছরের প্রথম দফার বন্যায় রাজ্যের (অসম) ছয়টি জেলায় ২২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই তথ্য অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর।
জলের তোড়ে বিধ্বস্ত লোহার ব্রিজ


গুয়াহাটি, ৩০ জুন (হি.স.) : অসমে এবং প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে চলতি বছরের প্রথম দফার বন্যায় রাজ্যের (অসম) ছয়টি জেলায় ২২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই তথ্য অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর।

এএসডিএমএ-র প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ধেমাজি, নলবাড়ি, ডিব্রুগড়, চিরাং, লখিমপুর এবং কোকরাঝাড় জেলায় মোট ২২,১২৪ জন মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে ধেমাজির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১৫,৪৮৩ জন মানুষ বন্যার জলে দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন।

বন্যার ফলে বসতবাড়ি ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এএসডিএমএ জানিয়েছে, বন্যার জলে ৯৬টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১,৬৯০ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অবিরাম বর্ষণের ফলে বিভিন্ন নদ-নদীর জলস্তরও দ্রুত বেড়েছে। সর্বশেষ বন্যা বুলেটিন অনুযায়ী, শিবসাগর জেলার নাংলামুরাঘাটে দিসাং নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে আরও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মানুষের পাশাপাশি বন্যার প্রভাব পড়েছে গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর ওপরও। চলতি বন্যায় মোট ৪৮,১৯৯টি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এএসডিএমএ জানিয়েছে।

এদিকে, পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ধেমাজি জেলার সিমেন নদীর ওপর নির্মিত একটি রেলসেতুর অংশ ভারী বৃষ্টি ও নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মার জারিকৃত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধেমাজি ও সংলগ্ন এলাকায় ১১০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা এবং তীব্র নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব পড়ে সেতুটির ওপর। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আর্চিপাথার এবং সিমেন চাপরি স্টেশনের মধ্যে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সালে নির্মিত এবং পরে ব্রডগেজে রূপান্তরিত সেতুটি এতদিন কাঠামোগতভাবে নিরাপদ ছিল। তবে প্রবল বর্ষণে নদীপাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেতুর একটি পিয়ারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই সতর্কতা হিসেবে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande