কেরলমে জলাধারে জল ২৫ শতাংশের নিচে, বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা; ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কিনতে অনুমতি কেএসইবিকে
কোচি, ৩০ জুন (হি.স.): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শুরু হওয়ার এক মাস পরেও কেরলমের প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জলাধারে জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার
কেরলমে জলাধারে জল ২৫ শতাংশের নিচে, বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা; ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কিনতে অনুমতি কেএসইবিকে


কোচি, ৩০ জুন (হি.স.): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শুরু হওয়ার এক মাস পরেও কেরলমের প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জলাধারে জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই কেরলম স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ড (কেএসইবি)-কে প্রয়োজন হলে উচ্চমূল্যে বাইরের রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ কেনার অনুমতি দিয়েছে কেরলম স্টেট ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (কেএসইআরসি)।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেরলমের প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে জল সরবরাহকারী জলাধারগুলিতে জল মজুত মোট ধারণক্ষমতার ২৫ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। রাজ্যের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ উৎস ইডুক্কি জলাধারে বর্তমানে জল রয়েছে মাত্র ২৩.১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, পাথানামথিট্টা জেলার সাবরিগিরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তর্গত কাক্কি-আনাথোড ও কোচু পাম্বা জলাধারের ধারণক্ষমতা বর্তমানে মাত্র ২১.৭৯ শতাংশ। বিগত বছরের একই সময়ে কেএসইবির জলাধারগুলিতে গড় জলসংরক্ষণ ছিল ৫২.৪ শতাংশ। সেই তুলনায় এ বছরের পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের মতে, দুর্বল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলতি মরশুমের প্রথম মাসে কেরলমে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহ বিদদের বক্তব্য, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো প্রভাব থাকলে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয় এবং তার ফলে বৃষ্টিপাতও স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়।

যদিও মরশুমের শুরু থেকে কেরলমের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে, তার অধিকাংশই উপকূল ও মধ্যাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। অথচ রাজ্যের অধিকাংশ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধার পাহাড়ি ক্যাচমেন্ট এলাকায় অবস্থিত, যেখানে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হওয়ায় বাঁধগুলিতে পর্যাপ্ত জল ঢোকেনি।

এই পরিস্থিতিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কেএসইআরসি জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত (সেপ্টেম্বর বাদে) প্রয়োজনে বেশি দামে বাইরের উৎস থেকে বিদ্যুৎ কেনার অনুমতি দিয়েছে কেএসইবিকে।

মঙ্গলবার কমিশন তাদের নির্দেশে জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই লোডশেডিং হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই নির্ধারিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্তত এক ঘণ্টা আগে গ্রাহকদের জানাতে হবে কেএসইবিকে। একই সঙ্গে, আগামী কয়েক সপ্তাহে বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়লে এবং জলাধারে জলস্তর বৃদ্ধি পেলে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেনা যতটা সম্ভব কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কেএসইআরসি আরও জানিয়েছে, চলতি জুন মাসে কেরলমে দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা গত কয়েক বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ইতিমধ্যেই চাপের মুখে থাকা রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande