
মুজাফফরপুর, ৪ জুন (হি.স.) : বিহারের মুজাফফরপুর শহরের ব্রহ্মপুরা থানা এলাকার অন্তর্গত প্রসাদ হাসপাতালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নগরী কমিশনার ঋতুরাজ প্রতাপ সিং এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার ভোররাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা হাসপাতাল চত্বর। এর জেরে হাসপাতালের ভেতরে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের বিশাল বাহিনী এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে।
নগরী কমিশনার ঋতুরাজ প্রতাপ সিং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শর্ট সার্কিটের জেরে আইসিইউ ওয়ার্ডে থাকা এসি-তে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজ এখনও জারি রয়েছে। দুর্ঘটনার পর দমকলের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাসপাতালটি সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছে এবং সেখানকার রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার উৎস ও প্রমাণ জোগাড় করতে ফরেনসিক দলও তদন্ত শুরু করেছে।
মৃতদের নাম শশাঙ্ক কুমার (ঔরাই, মুজাফফরপুর), গীতা দেবী (মোতিপুর), উদয় কুমার ও কৃষ্ণ নন্দন (তড়িয়ানি, শিবহর জেলা) এবং চঞ্চলা কুমারী বলে শনাক্ত করা গেছে। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ বেশ কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তিনি বলেন, “মুজাফফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আগুন লেগে মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। ঈশ্বর প্রয়াত আত্মাদের শান্তি দিন এবং পরিবারগুলিকে এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন।”
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে অবিলম্বে ৪ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্য দিকে, বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় চৌধুরীও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ শোক প্রকাশ করে লেখেন, “মুজাফফরপুরের বেসরকারি হাসপাতালে আগুন লেগে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আহত রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনকে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি