
নয়াদিল্লি, ৫ জুন (হি.স.) : উত্তর রেলের তিলক ব্রিজ-শকুরবস্তী রেল সেকশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শুক্রবার তিনি শকুরবস্তী ডিপোতে হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্প, অত্যাধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি রেলকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের শুরুতে উত্তর রেলের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। পরে তিনি শকুরবস্তী ডিপোতে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন।
ডিপোতে স্থাপিত অত্যাধুনিক ‘রিট্র্যাক্টেবল ওএইচই’ (ওভারহেড ইকুইপমেন্ট) ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শেডের ভিতরে ইঞ্জিন ও ট্রেনের দ্রুত এবং নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হয়। এছাড়াও বগি পিট এবং বগি লিফটিং সুবিধাও পরিদর্শন করেন তিনি। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার দক্ষতা আরও বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তির কাজ কত দূর এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখে রেলমন্ত্রী বলেন, দূষণমুক্ত ও সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে ভারতীয় রেলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শকুরবস্তী ডিপো চত্বরে বৃক্ষরোপণও করেন তিনি। এদিন পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতীয় রেলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, রেলপথের শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে ভারতীয় রেল। এই উদ্যোগ দেশের ‘নেট জিরো কার্বন নিঃসরণ’ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরিদর্শনের ফাঁকে ডিপোর কর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কর্মচারী এবং অন্যান্য রেলকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা, দৈনন্দিন সমস্যার কথা শোনেন এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের আশ্বাস দেন।
রেলকর্মীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। উপস্থিত শীর্ষ আধিকারিকদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, কর্মীদের সমস্যার দ্রুত ও সময়বদ্ধ সমাধান করা ভারতীয় রেলের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এদিনের পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর রেলের মহাব্যবস্থাপক, দিল্লি ডিভিশনের ডিআরএম, রেল বোর্ড এবং উত্তর রেলের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য