
পুণে, ৫ জুন (হি.স.) : মহারাষ্ট্রের পুণের হিঞ্জেওয়াড়ি ক্যাম্পাসে কর্মরত উইপ্রোর এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী ধর্মীয় হয়রানি, ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় তিনি হিঞ্জেওয়াড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি সংস্থার উদ্দেশে আইনি নোটিসও পাঠিয়েছেন।
অভিযোগকারী মহিলার দাবি, এক সহকর্মী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে মন্তব্য করতেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তন করলে তাঁর জীবনযাত্রার মান, সামাজিক মর্যাদা এবং বিদেশে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলেও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এভাবে তাঁর উপর মানসিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
মহিলা জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির নজরে আনলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংস্থার পক্ষ থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের অগস্টে একটি অনলাইন বৈঠকে তাঁকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি স্বেচ্ছায় নয়, চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। পাশাপাশি নিজের বক্তব্য তুলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার মহিলার আইনজীবী বিবেক ভোসলে জানিয়েছেন, আইনসঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ওই পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে। সংস্থাকে পাঠানো আইনি নোটিসে চাকরিতে পুনর্বহাল, পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হিঞ্জেওয়াড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত উইপ্রোর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলাকালীন এ বিষয়ে মন্তব্য করা তাড়াহুড়ো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, হিন্দু জাগরণ সমিতির সুনীল ঘনওয়াট জানিয়েছেন, দু’দিন আগেই নির্যাতিতার সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, দেশের একটি বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায় বিভিন্ন মহল থেকে চাপ রয়েছে। বড় সংস্থাগুলিতে এ ধরনের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য