
দুর্গাপুর, ৪ জুন (হি.স.) : বায়ুসেনা ঘাঁটির দিকে লক্ষ্য করে সিসি ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে পানাগড়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই ক্যামেরায় ধারণ করা কোনও তথ্য বা ছবি বাইরে পাচার করা হচ্ছিল কি না।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম মুনিলাল পণ্ডিত ও সন্দীপ দুবে। দু’জনেই পানাগড়ের বিরুডিহা এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তাঁদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, বিরুডিহা এলাকায় বায়ুসেনা ঘাঁটির সংলগ্ন একটি গ্যারেজ রয়েছে ধৃতদের। অভিযোগ, ওই গ্যারেজের মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু একটি লোহার পাইপের মাথায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল এবং সেটি বায়ুসেনা ঘাঁটির দিকে কাত করা অবস্থায় ছিল। বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে আসতেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাকর্মীরা ক্যামেরাটি বাজেয়াপ্ত করেন। বুধবার সন্ধ্যায় কাঁকসা থানার পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার জেরে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, পানাগড় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ঘাঁটি, যেখানে অত্যাধুনিক সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস পরিবহণ বিমান মোতায়েন রয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে বিমান ওঠানামা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে।
উল্লেখ্য, অতীতেও পানাগড় ও সংলগ্ন এলাকায় গুপ্তচরবৃত্তি এবং জঙ্গি যোগের অভিযোগে একাধিক গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। কয়েক বছর আগে কাঁকসা এলাকায় বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
তবে বর্তমান ঘটনায় কোনও জঙ্গি সংগঠন বা গুপ্তচরচক্রের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং ক্যামেরায় কী ধরনের ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা