
কলকাতা, ৪ জুন (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে একটি নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প “বিকসিত ভারত – গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকা সদ্ব্যবহার মিশন (ভিবি-গ্রামীণ-জি)” শুরু করতে চলেছে। বৃহস্পতিবার গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান যে, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প (মনরেগা)—যা সাধারণত ১০০ দিনের কাজ নামে পরিচিত, তা রাজ্যে গত ১ জুন থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে এই প্রকল্পটির কাজকর্ম স্তব্ধ ছিল।
নতুন ‘ভিবি-গ্রামীণ-জি’ প্রকল্পের অধীনে যোগ্য জব কার্ডধারী পরিবারগুলিকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে, যার মধ্যে ন্যূনতম ৬০ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের গ্যারান্টি থাকবে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী আসতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দিলীপ ঘোষ জানান, এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় তহবিলের ৬০ শতাংশ কেন্দ্র এবং ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করবে। প্রকল্পটির বার্ষিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি, যা এটিকে রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে পরিণত করবে।
তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এসআইআর-এর পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যে ১ জুন থেকে মনরেগা পুনরায় চালু করা হয়েছে। আর ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে ‘ভিবি-গ্রামীণ-জি’, যার অধীনে যোগ্য উপভোক্তাদের ১২৫ দিন পর্যন্ত কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং প্রকল্প রূপায়ণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্র ও তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মধ্যে দীর্ঘ বিবাদের জেরে ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরই তদন্ত ও স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হয়। সেই দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যে পুনরায় বহাল হল মনরেগা।
দিলীপ ঘোষ অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই প্রকল্প রূপায়ণে বড়সড় অনিয়ম হয়েছিল এবং পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল।
গ্রামীণ এলাকার ভূমিহীন শ্রমিক, প্রান্তিক চাষী এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির কাছে মনরেগা প্রকল্পটিকে আয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে কৃষিকাজের অফ-সিজনে এটি অত্যন্ত সহায় হয়।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘ভিবি-গ্রামীণ-জি’ প্রকল্প রূপায়ণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে নির্দেশিকা তৈরি করা, মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি