
নাগপুর, ৪ জুন (হি.স.): ভারতের সময় এসে গেছে এবং বিশ্বকে এক নতুন দিশা দেখানোর দায়িত্ব এখন ভারতের কাঁধে। এমনটাই বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক ড. মোহনরাও ভাগবত । তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদের প্রস্তুত করার গতি আরও বাড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে তিনি সঙ্ঘকে কেবল দূর থেকে বা দর্শকের মতো না দেখে, ভেতরে এসে সঙ্ঘকে বোঝার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন, আমাদের কার্যকর্তারা নিজেরাই তাঁদের কাছে পৌঁছাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিন্দু সমাজের সংগঠিত শক্তির মাধ্যমেই ভারত রাষ্ট্রের পুনরুত্থান সম্ভব।
এদিন নাগপুরের রেশিমবাগ ময়দানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ‘কার্যকর্তা বিকাশ বর্গ–দ্বিতীয়’-এর সর্বজনিক সমাপন সমারোহে কার্যকর্তা ও সমাজের সাধারণ মানুষকে সম্বোধন করে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা। ভাষণের পূর্বে প্রশিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরণের শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন।
নিজের ভাষণে ড. মোহন ভাগবত বলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘর্ষ, স্বার্থপরতা এবং ভারসাম্যহীন উন্নয়নের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই সময়ে মানবতার জন্য ভারতের জীবন-দর্শন ও মূল্যবোধের অত্যন্ত প্রয়োজন। ভারতের বিশ্বগুরু হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তবে এর জন্য সমাজকে প্রস্তুত করার গতি বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসার সামর্থ্য কেবল তাদেরই থাকে, যারা আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়।”
সরসঙ্ঘচালক বলেন, ব্যক্তির স্বাধীনতা, সমাজের স্বাধীনতা এবং সৃষ্টির সংরক্ষণকে একসঙ্গে নিয়ে চলার ভাবনাটিই ভারতের বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের অনেক দেশ এই দিকগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে দেখে, কিন্তু এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ভারতেরই রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতকে অন্য দেশের অনুকরণ করে নয়, বরং নিজের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিশ্বকে পথ দেখাতে হবে।
হাজার বছরের পরাধীনতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ভারতের ওপর শাসন করেছিল, তারা কোনওভাবেই ভারতীয় সমাজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল না, বরং নিকৃষ্ট ছিল। সমাজের কিছু দুর্বলতার কারণেই আমাদের দাসত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সঙ্ঘ এমন এক কার্যপদ্ধতি তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা যায়।
ড. ভাগবত বলেন, বিশ্ব এটা মানে যে বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে চলার ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক, কিন্তু পৃথিবী চলে তার নিয়মেই যার কাছে শক্তি আছে। তাই ভারতের দায়িত্ব হলো শক্তি-সম্পন্ন হওয়া। ‘বিশ্ব বন্ধুত্ব’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-কে ভারতের মূল চেতনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি যে শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের খামখেয়ালিপনা চালায়। ইচ্ছে হলে কোনও দেশ দখল করে নেয়, ইচ্ছে হলে বোমা মারে বা বিশ্বের তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ভারতের সম্পর্কে যেন এমন ধারণা তৈরি হয় যে, সে শক্তিশালী হয়েও এমনটা করবে না, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলবে।”
তিনি বলেন, সঙ্ঘ এমন কার্যকর্তা তৈরি করতে চায় যারা স্বার্থ ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের ভারতের পুনরুত্থানের স্বপ্ন আগামী দুই-তিন দশকের মধ্যে বাস্তবায়িত হতে দেখা যাবে।
বিশিষ্ট শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লা ভারতের অগ্রগতিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। বলেন, এই সংগঠন সমাজকে সঠিক দিশা দেখানোর কাজ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়টা ভারতের এবং এটি আমাদের জন্য অনেক সুযোগ নিয়ে এসেছে। তিনি দেশের যুবসমাজকে এই অমৃত কালকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। তাঁর চিন্তাভাবনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং সঙ্ঘকে ভেতর থেকে জানার তাঁর অনুরোধের কারণেই তিনি আজ এখানে এসেছেন।
নিজের ভাষণে তিনি বৈশ্বিক সংকটের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশকে নিজের জাতীয় ক্ষমতা এবং স্থিতিস্থাপকতা আরও মজবুত করতে হবে। অপরিশোধিত তেলের দাম, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতকে ভবিষ্যতের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত থাকতে হবে।
আদিত্য বিড়লা গ্রুপের কাজের সঙ্গে আরএসএস-এর তুলনা করে তিনি বলেন, কীভাবে এই সংস্থা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সেবা ক্ষেত্রে নিরলস কাজ করে চলেছে
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ