
দেহরাদূন, ৪ জুন (হি.স.) : প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আলমোরার নির্ধারিত জনসভায় পৌঁছতে না পারলেও উত্তরাখণ্ডের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য গঠনের সময় যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে উত্তরাখণ্ডের জন্ম হয়েছিল, তার অনেকটাই এখনও অপূর্ণ থেকে গিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং তার সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে বড়সড় ঘাটতি রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আলমোরার সিমকনি এলাকায় এসএসজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে কংগ্রেসের ‘পরিবর্তনের শঙ্খনাদ’ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীর প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সভাস্থলে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে পন্তনগর থেকে তাঁর হেলিকপ্টার উড়তে পারেনি। সূত্রের খবর, হেলিকপ্টার উড্ডয়নের চেষ্টা করলেও আবহাওয়ার অবনতির কারণে তা ফেরত যেতে বাধ্য হয়। এরপর পন্তনগর বিমানবন্দর থেকেই ফোনে জনসভাকে সম্বোধন করেন তিনি।
সভার শুরুতেই উপস্থিত মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে রাহুল বলেন, তিনি উত্তরাখণ্ডের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে, তাঁদের কথা শুনতে এবং রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। আলমোরার জনসভার পাশাপাশি পৌড়ি গড়ওয়ালে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক এবং কোটদ্বারে আরও একটি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সবকিছু বাতিল করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “আজ সকালে আমি পন্তনগরে পৌঁছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আলমোরায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে পাইলট উড়তে রাজি হননি। নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না। প্রকৃতির সামনে আমাদের সবাইকে মাথা নত করতে হয়।”
রাহুল গান্ধী বলেন, উত্তরাখণ্ডের মানুষের সঙ্গে তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল। রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক চ্যালেঞ্জ, কর্মসংস্থান, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় তিনি হতাশ।
বক্তব্যে উত্তরাখণ্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন রাহুল। তিনি বলেন, উত্তরাখণ্ড রাজ্য গঠনের সময় মানুষের আশা ছিল যে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হবে, স্থানীয় সম্পদ স্থানীয় মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হবে এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের বড় অংশের সুবিধা বহিরাগতরা ভোগ করছে, অথচ স্থানীয় মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
রাহুলের অভিযোগ, উত্তরাখণ্ডের সরকার কার্যত দিল্লি থেকে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও মতামতের ভিত্তিতে না হয়ে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিনের বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। একের পর এক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।
তবে সভায় উপস্থিত মানুষকে আশ্বস্ত করে রাহুল বলেন, এই সফর বাতিল হলেও উত্তরাখণ্ডে আসার পরিকল্পনা তিনি বাতিল করছেন না। খুব শীঘ্রই আবার রাজ্যে এসে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, “আজ আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে না পারলেও আমার ইচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে। খুব শীঘ্রই আবার উত্তরাখণ্ডে আসব। তখন তাড়াহুড়ো নয়, আপনাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে কথা বলব, আপনাদের মতামত শুনব এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করব।”
উল্লেখ্য, এদিনের জনসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত, কংগ্রেসের রাজ্য পর্যবেক্ষক কুমারী শৈলজা, প্রাক্তন মন্ত্রী প্রীতম সিং, বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, মদন বিস্ট, সুমিত হৃদয়েশ, ভুবন কাপড়ি, রাজকুমার ঠুকরাল, হেমেশ খারকওয়াল, আদেশ চৌহান-সহ দলের একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য