
দুর্গাপুর, ৪ জুন (হি.স.) : প্রায় এক বছর দশ মাসের সাসপেনশনের পর বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা বিডিও অফিসে কাজে যোগ দিলেন সরকারি কর্মী শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জি কর-কাণ্ডে অভয়ার ন্যায়বিচার এবং সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জেরে তিনি সাসপেন্ড হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।কাঁকসা বিডিও অফিসে যোগ দিতে এলে সহকর্মী এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা ফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর কাজে ফেরায় সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যেও উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আর জি কর ইস্যু এবং কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকা নবান্ন অভিযানে অংশ নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেই সময় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার হামলারও শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। পাণ্ডবেশ্বরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ডেপুটেশন কর্মসূচিতে গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার অনশন কর্মসূচিতে টানা ৫২ দিন অনশন করেছিলেন বলেও জানান।কাজে যোগ দেওয়ার পর শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে আন্দোলন করিনি। রাজ্যের কর্মচারীদের অধিকার এবং অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিলাম। সেই কারণে নানা অত্যাচার, অপমান ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু অন্যায়ের সামনে মাথা নত করিনি। আজ আবার কাজে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।”সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে শুভঙ্করকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে স্থায়ী নয়, আজ তাঁর পুনরায় কাজে যোগদানই তার প্রমাণ।”দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর শুভঙ্করের কাজে প্রত্যাবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারী কর্মীদের একাংশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা