
আগরতলা, ৪ জুন (হি.স.) : বিধানসভায় আসন সংখ্যা শূন্য হয়ে গেলেও তাতে সিপিআই(এম)-এর কিছু যায় আসে না। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে থাকাটাই দলের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে বৃহস্পতিবার এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআই(এম) নেতা মানিক সরকার।
এদিন রাজধানী আগরতলায় ত্রিপুরা অটো রিক্সা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা দাবি করেছিলেন, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্তমান সিপিআই(এম) বিধায়কদের কেউই জয়ী হতে পারবেন না এবং সমস্ত আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হবেন। সেই মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মানিক সরকার বলেন, “বিধানসভায় আসন সংখ্যা শূন্য হয়ে গেলেও তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা মানুষের স্বার্থে আন্দোলন ও সংগ্রামের ময়দানে রয়েছি। লড়াইয়ের ময়দানে থাকাটাই আসল কথা।”
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং দলীয় কার্যালয়গুলিও আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এসবের পরেও সিপিআই(এম)-এর কর্মী-সমর্থকরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোট দিতে না দেওয়া হলে কিংবা ভোট লুট করা হলে আসন সংখ্যা শূন্য করে দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু সুষ্ঠু ও অবাধ পরিবেশে নির্বাচন হলে শাসকদলের ফলাফল যে খারাপ হবে, তা ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।”
এদিকে বুধবার রাজধানীর নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাতেও প্রতিক্রিয়া জানান মানিক সরকার। তিনি বলেন, “নাগেরজলায় কোনও নীতি বা আদর্শগত বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা এবং স্বার্থের সংঘাত থেকেই ওই মারামারির সূত্রপাত হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিধানসভার আসন সংখ্যা, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে দুই ‘মানিক’-এর এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ