
হুগলি , ৪ জুন (হি.স.) : অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়াল গোঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভবনের সামনেই কিছু ব্যক্তি ফর্ম ফিলাপ করিয়ে দেওয়ার নাম করে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের আর্থিক লেনদেন চলছিল বলে অভিযোগ। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ জমতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পঞ্চায়েত চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সান্তনা মান্না এবং বিরোধী দলনেতা সিদ্ধেশ্বর পাখিরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাঁরা উপস্থিত আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
ফর্ম জমা দিতে আসা একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। এতে গরিব ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিরোধী দলনেতা সিদ্ধেশ্বর পাখিরা বলেন, প্রশাসনিক নজরদারির অভাবেই এই ধরনের অনিয়ম ঘটছে। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সান্তনা মান্না জানান, অভিযোগ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে কেউ অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কতদিন ধরে এই কাজ চলছিল তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA