বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতন, হাসপাতালে গৃহবধূ
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৪ জুন (হি.স.) : বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেন নববধূ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমার লেফুঙ্গা থানাধীন দমদমিয়া এলাকায়। আহত গৃ
গৃহবধূ হাসপাতালে


মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৪ জুন (হি.স.) : বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেন নববধূ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমার লেফুঙ্গা থানাধীন দমদমিয়া এলাকায়। আহত গৃহবধূর নাম নমিতা সরকার। বর্তমানে তিনি আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আড়াই মাস আগে সামাজিক রীতিনীতি মেনে দমদমিয়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী অনন্ত সরকারের সঙ্গে নমিতা সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম কয়েকদিন সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই নববধূর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী অনন্ত সরকার এবং তাঁর মা বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে নিয়মিতভাবে নমিতার ওপর অত্যাচার করতেন। সময়ের সঙ্গে সেই নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে।

অভিযোগ, বুধবার পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। সেদিন নমিতার মাকে বাড়িতে ডেকে এনে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন স্বামী ও শাশুড়ি। কিন্তু মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁদের সামনেই নমিতার ওপর বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ, রান্নাঘর থেকে চুলের মুঠি ধরে টেনে এনে তাঁকে মারধর করেন স্বামী অনন্ত সরকার ও তাঁর মা।

মারধরের ফলে গুরুতর জখম হন নমিতা সরকার। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জিবিপি হাসপাতালে আহত গৃহবধূর মা সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর অত্যাচার চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের কারণেই তাঁর মেয়ের এই অবস্থা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন।

জিবিপি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারধরের ফলে নমিতা সরকারের কোমরে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তাঁর কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশে মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে আহত গৃহবধূর পরিবার।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande