
আগরতলা, ৪ জুন (হি.স.) : “প্রকৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী আগরতলায় সুকান্ত একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ২৬০ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী।
আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সকাল থেকেই সুকান্ত একাডেমি প্রাঙ্গণ শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। হাতে রং, তুলি ও কাগজ নিয়ে তারা পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরে নিজেদের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে।
প্রতিযোগিতাটি তিনটি পৃথক বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ দূষণ রোধ, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে নানা চিত্র অঙ্কন করে। খুদে শিল্পীদের কল্পনায় ফুটে ওঠে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অনেকেই তাদের ছবিতে গাছ লাগানো, প্লাস্টিক বর্জন, জল সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার বার্তা তুলে ধরে।
প্রতিযোগিতা চলাকালীন শিশু-কিশোরদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের শিল্পকর্ম শুধু সৃজনশীলতার পরিচয়ই দেয়নি, বরং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেছে।
প্রতিযোগিতা শেষে সুকান্ত একাডেমির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মেম্বার সেক্রেটারি ডঃ বিশু কর্মকার, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার সুশান্ত বণিকসহ পর্ষদের অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানান এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব গড়ে তুলতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ক বার্তা সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশই ঘটায়নি, পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কেও তাদের মধ্যে গভীর উপলব্ধি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ