স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা প্রয়োজনে রক্ত পাচ্ছেন না, অভিযোগ মানিক সরকারের
আগরতলা, ৪ জুন (হি.স.) : স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীরা নিজেদের বা পরিবারের প্রয়োজনে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা অটো রিক্সা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের রাজ্য কমিটির উদ্যো
মানিক সরকার


আগরতলা, ৪ জুন (হি.স.) : স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীরা নিজেদের বা পরিবারের প্রয়োজনে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা অটো রিক্সা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রক্তদান শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, ত্রিপুরা অটো রিক্সা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের এই রক্তদান কর্মসূচি এখন একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় রক্তের চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য সংগঠনের উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদের অভিনন্দন জানান তিনি।

তবে একইসঙ্গে বর্তমান রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বহু স্বেচ্ছায় রক্তদাতা নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনে ব্লাড ব্যাঙ্কে গেলে সহজে রক্ত পান না। এর ফলে রক্তদাতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

মানিক সরকার দাবি করেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালু ছিল। সেই সময় চিকিৎসকের রিকুইজিশন বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকলে স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা পরবর্তীকালে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে দুই বোতল পর্যন্ত রক্ত পাওয়ার সুবিধা পেতেন। এতে সাধারণ মানুষ রক্তদানে আরও উৎসাহিত হতেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়েছিল।

বর্তমানে সেই ব্যবস্থা কার্যকর নেই বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রক্তদাতারা যদি প্রয়োজনের সময় কোনও বিশেষ সুবিধা বা অগ্রাধিকার না পান, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই রক্তদানে আগ্রহ হারাতে পারেন। এর প্রভাব রাজ্যের সামগ্রিক রক্ত সংগ্রহের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিনের রক্তদান শিবিরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অটোচালক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই প্রতিবছর এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande