
রায়পুর, ৫ জুন (হি.স.) : ছত্তিশগড়ের বহুচর্চিত মদ ও ডিএমএফ (ডিস্ট্রিক্ট মিনারেল ফাউন্ডেশন) কেলেঙ্কারিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার তদন্তকারী সংস্থার দাবি করেন , অনবর ঢেবর ও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অনিল টুটেজা-ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের ১,৪০০ কোটিরও বেশি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মদ, কয়লা, সাট্টা ও ডিএমএফ কেলেঙ্কারি মিলিয়ে এই চক্র প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে বলে অভিযোগ।
ইডি সম্প্রতি তিনটি প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার জারি করেছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলির নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা হলেও বাজারমূল্য ১,০০০ থেকে ১,৪০০ কোটিরও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রায়পুরের অভিজাত ‘ঢেবর সিটি’-র একাধিক বেনামি সম্পত্তি এবং গোয়ার বিলাসবহুল ‘ওয়েস্টিন’ হোটেল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোয়ার ওই হোটেলটি মদ কেলেঙ্কারি থেকে অর্জিত ১১০ কোটি টাকার কালো অর্থে কেনা হয়েছিল। সিন্ডিকেট-ঘনিষ্ঠ তিনটি সরবরাহকারী সংস্থা— ওম সাই বেভারেজেস, দিশিতা ভেঞ্চার্স এবং নেক্সজেন পাওয়ার ইঞ্জিটেক-এর ৫১ কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডও ফ্রিজ করা হয়েছে। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির কাছ থেকে জোর করে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা আদায় করা হতো।
ইডি-র দাবি, শুধুমাত্র মদ কেলেঙ্কারি থেকেই ২,৮৮৩ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে। নকল হোলোগ্রামযুক্ত দেশি মদ বিক্রি, ডিস্টিলারদের কাছ থেকে প্রতি বাক্সে নির্দিষ্ট কমিশন আদায় এবং অনিয়মিতভাবে লাইসেন্স বণ্টনের মাধ্যমে এই দুর্নীতির জাল বিস্তার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন রায়পুরের বিশেষ পিএমএলএ আদালতে মামলার ষষ্ঠ সম্পূরক চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। ওই চার্জশিটে চার নতুন অভিযুক্তের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ব্যবসায়ী বিজয় ভাটিয়া, টি. ভুবনেশ্বর রাও, প্রবীর শর্মা এবং নিখিল চন্দ্রাকার। নতুন চারজনের নাম যুক্ত হওয়ায় এই অর্থপাচার মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য