হাওড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠান
হাওড়া, ৫ জুন (হি.স.): বিশ্ব পরিবেশ দিবসে হাওড়াজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে নয়, সামাজিক অঙ্গীকারের রূপ দিল প্রশাসন। ''মায়ের নামে একটি গাছ'', এই বার্তাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চারা রোপণ করা
হাওড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনে প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই


হাওড়া, ৫ জুন (হি.স.): বিশ্ব পরিবেশ দিবসে হাওড়াজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে নয়, সামাজিক অঙ্গীকারের রূপ দিল প্রশাসন। 'মায়ের নামে একটি গাছ', এই বার্তাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চারা রোপণ করা হল।

এদিন ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তা। স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পুলিশকর্মী এবং বিভিন্ন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই অভিযানে অংশ নেন। পরিবেশ রক্ষার শপথের পাশাপাশি হাতে-কলমে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উমেশ রাই বলেন, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন হাওড়া গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। মায়ের নামে একটি গাছ মানে শুধু একটি চারা বসানো নয়, তাকে মায়ের মতোই শ্রদ্ধা ও যত্ন করা। সেই গাছ সারাজীবন পরিবারকে আশীর্বাদের মতো ছায়া ও অক্সিজেন দেবে।

মন্ত্রী আরও জানান, হাওড়া শহরে এক কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বৃহস্পতিবারই প্রায় ২৩ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্ষার মরসুমে বৃহৎ আকারে এই কর্মসূচি চালিয়ে গিয়ে শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হবে।

গাছ কাটা এবং জলাশয় ভরাটের প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন তিনি। উমেশ রাইয়ের কথায়, উন্নয়নমূলক কাজে কোথাও গাছ অপসারণের প্রয়োজন হলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। জলাশয় রক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোও সমান জরুরি।

হাওড়ার মতো দ্রুত বিস্তৃত নগর অঞ্চলে দূষণ ও সবুজের সংকোচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের এই কর্মসূচি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, পরিবেশকে জন আন্দোলনের স্তরে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাও বটে। মায়ের স্মৃতির সঙ্গে একটি গাছকে জুড়ে দেওয়ার ভাবনা সেই বার্তাকেই আরও গভীর করে তুলেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande