প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ে উদ্ধার ত্রাণসামগ্রী, গেস্ট হাউসে মিলল কন্ডোম; উত্তেজনা পান্ডবেশ্বরে
দুর্গাপুর, ৫ জুন (হি. স.) : প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কার্যালয় সংলগ্ন গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল অন্ডালের বাঁকোলা এলাকায়। একইসঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত বলে অভিযোগ থাকা
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ে উদ্ধার ত্রাণসামগ্রী, গেস্ট হাউসে মিলল কন্ডোম; উত্তেজনা পান্ডবেশ্বরে


দুর্গাপুর, ৫ জুন (হি. স.) : প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কার্যালয় সংলগ্ন গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল অন্ডালের বাঁকোলা এলাকায়। একইসঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত বলে অভিযোগ থাকা একটি গেস্ট হাউসের ড্রয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ কন্ডোম উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সকালে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাসভবন সংলগ্ন একটি গুদামের সামনে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও। অভিযোগ, গুদামের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁরা বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী দেখতে পান।

অভিযোগ, গুদামে শাড়ি, লুঙ্গি, ত্রিপল, চাল, মশারি এবং স্কুলের পোশাক মজুত করে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য আসা সরকারি ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে না পৌঁছে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জমা রাখা হয়েছিল। এমনকি ওই সামগ্রীর একাংশ অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হত বলেও অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি সামগ্রী বিতরণ না করে সেগুলি ব্যক্তিগত কার্যালয়ের গুদামে মজুত রাখা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, বহু গরিব মানুষ প্রয়োজনীয় ত্রাণ না পেলেও সেই সামগ্রী গুদামে পড়ে ছিল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন গুদামের পাশেই থাকা একটি গেস্ট হাউসে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, ওই গেস্ট হাউসটি প্রাক্তন বিধায়ক ব্যবহার করতেন। সেখানে সুসজ্জিত দুটি ঘর, বিছানা, বালিশ ও অন্যান্য আসবাবপত্রের পাশাপাশি একটি ড্রয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ কন্ডোম উদ্ধার হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই গেস্ট হাউসে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। যদিও এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে লোক ঢুকিয়ে তাঁর কার্যালয় ও গুদামে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক ছিলেন। চলতি বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী সরকারি প্রকল্পের কি না এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande