
কলকাতা, ৫ জুন (হি.স.): বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার প্রেস ক্লাব কলকাতার উদ্যোগে “বেঙ্গল'স এনভায়রনমেন্ট আ্যন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ রোড ম্যাপ-২০২৬” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হলো। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তথা ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। পরিবেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও তা মোকাবিলার রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উন্নয়নের স্বার্থে এবং সবুজকে বাঁচাতে সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এ দিন একটি খোলামেলা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পরিবর্তিত ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিবেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার প্রসঙ্গটিও আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় কলকাতার ‘আদি গঙ্গা’র দূষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “আদি গঙ্গার পুনরুজ্জীবনের ওপর ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখন সত্যিই প্রশ্ন জাগে, এর একটা ফরেনসিক অডিট দরকার হয়ে পড়েছে কি না? কাজের জন্য টাকার কোনও অভাব ছিল বলে মনে হয় না, কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার (ইউটিলাইজেশন) কেন হলো না, সমস্যাটা ঠিক কোথায়— তা নিয়ে আজ গভীরভাবে ভাবনার অবকাশ রয়েছে।”
রবীন্দ্র সরোবর, সুভাষ সরোবর (লেক) রক্ষা এবং চিংড়িঘাটায় মেট্রো রেল সম্প্রসারণের মতো পরিবেশগত সংবেদনশীল ইস্যুগুলি নিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে এই সমস্ত বিষয়ে নানা সময়ে কড়া আলোচনা হলেও, জট খোলার কোনও আন্তরিক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি।” এই প্রসঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পূর্বতন প্রশাসনের নীতিগত নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই আজ অনেক ক্ষেত্রে বাংলা পিছিয়ে রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত