মালব্য নগর অগ্নিকাণ্ড: হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে আগেই ছিল ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ
নয়াদিল্লি, ৫ জুন (হি.স.) : দিল্লির অভিজাত এলাকা মালব্য নগরে একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। শুক্রবার তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর বাংলাদেশি অনুপ্র
মালব্য নগর অগ্নিকাণ্ড: হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে আগেই ছিল ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ


নয়াদিল্লি, ৫ জুন (হি.স.) : দিল্লির অভিজাত এলাকা মালব্য নগরে একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। শুক্রবার তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতে সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছিলেন তিনি।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৫ সালে পাহাড়গঞ্জ থানার পুলিশ অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় লাভকেশ বাজাজের ভূমিকা সামনে আসে। তদন্তে জানা যায়, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক ভুয়ো আধার কার্ড ও ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। সেই নথিপত্রে ব্যবহৃত ঠিকানার সূত্র ধরেই পৌঁছনো যায় লাভকেশের কাছে।

২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি পাহাড়গঞ্জের সঙ্গতরাশন এলাকায় এক বাংলাদেশি পরিবারের অবৈধভাবে বসবাসের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই বাড়ি থেকে দুই মহিলা ও এক নাবালককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা নিজেদের পরিচয়ের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি।

তল্লাশিতে উদ্ধার হয় দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একাধিক আধার কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত নথি। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ভিন্ন নামে তৈরি একাধিক নথিতে একই মহিলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভুয়ো পরিচয়ে ভারতীয় নাগরিক সেজে থাকার সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশি নাগরিক সুইটি সরকার ওরফে বিউটি হাওলদার ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির জন্য দক্ষিণ দিল্লির ছত্তরপুর এনক্লেভের একটি ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, ওই বাড়ির মালিক লাভকেশ বাজাজ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে লাভকেশ স্বীকার করেছিলেন যে অর্থের বিনিময়ে তিনি নিজের ঠিকানা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগেই বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন দেশে অবৈধভাবে বসবাস করছিল।

মামলার তদন্ত শেষে লাভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ১৫ দিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মামলার চার্জশিট ইতিমধ্যেই আদালতে জমা পড়েছে এবং বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।

এরই মধ্যে বুধবার দিল্লির অভিজাত এলাকা মালব্য নগরে একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হোটেল মালিক হিসেবে লাভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি হোটেলের নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। হোটেলের হিসাবরক্ষক জয় মিশ্র এবং ম্যানেজার রাকেশের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁদের খোঁজে বিহারেও একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি গত বছরের ভুয়ো পাসপোর্ট মামলার নথিপত্রও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেল পরিচালনা, ভুয়ো নথি তৈরির চক্র এবং অন্যান্য সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড এবং পূর্বের অপরাধমূলক মামলাগুলির মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande