
পূর্ব বর্ধমান, ৫ জুন (হি. স. ) : সুরেন্দ্রনাথ কলেজ-কাণ্ডে সিঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা সামান্য তাঁত শ্রমিকের ছেলে পরিতোষ দত্ত গ্রেফতারের পর রকেটের গতিতে তাঁর উত্থান নিয়ে চর্চা চলছে এলাকায়।
বৃহস্পতিবার তাঁকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। তারপর গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাত্র ৩০০ টাকা রোজ মাইনের বিনিময়ে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ। বছর দশের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক। শুধু নিজের গ্রামেই রয়েছে চারটি বাড়ি। গ্রামে ঢোকার মুখেই কোটি টাকার উপর খরচ করে তৈরি হচ্ছে লজ। হুগলির কোন্নগরেও রয়েছে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পরিচালনসমিতির কর্তা, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ ‘কানকাটা’ দেবুর সঙ্গে কমিশনের ভিত্তিতে সে কাজ করতেন বলে দাবি করেছেন পরিতোষের বাবা। ছেলের গ্রেফতারের পর পরিতোষের মা সান্তনাদেবী ভেঙে পড়েছেন। তাঁর কথায়,”ওকে কেউ ফাঁসিয়ে দিয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন চলে আসে পরিতোষের। সিঙ্গি গ্রামে ঢোকার মুখেই বিশাল অট্টালিকাসম একটি লজ তৈরি করছিলেন পরিতোষ। তবে গ্রামে কমই থাকতেন। কোন্নগরে ফ্লাটে থাকতেন পরিতোষ। সেখান থেকেই কলকাতায় যাতায়াত করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বিধানসভা ভোটের কয়েকদিন আগে কলকাতা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলেন পরিতোষ। পাটুলি রেলস্টেশন থেকে ট্রেন ধরার কথা ছিল। মামাতো ভাই স্কুটিতে চাপিয়ে রেলস্টেশন পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পা ভাঙে পরিতোষের। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে টানা চিকিৎসার পর সিঙ্গিতে চলে আসেন। বিশ্রামে ছিলেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁকে ধরে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত