

কলকাতা, ৫ জুন (হি.স.): ৫ জুন মানেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রাক্কালের রবি ঠাকুর, সুকান্ত ভট্টাচার্য থেকে হালের নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী— স্বনামধন্য কবি-সাহিত্যিকদের লেখনীতে সময় নির্বিশেষে বারবার উঠে এসেছে পরিবেশ রক্ষার আর্তি। সভ্য জগতের আশু বিপর্যয় রুখতে চাই পরিকল্পিত পরিবেশ সংরক্ষণ। সেই ভাবনাকে মাথায় রেখেই কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়ায় শুক্রবার সকাল ১১টায় আয়োজন করা হয় এক বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। আয়োজক সংস্থা ‘মন্ত্রাস ফাউন্ডেশন’-এর এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘এনভায়রনমেন্ট রাউন্ড এবং সিম্পোজিয়াম ৩.০’। এবারের মূল ভাবনা ছিল— ‘মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় : অবহেলার মূল্য এবং প্রতিকারের আহ্বান’। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিদ ডঃ স্বাতী (নন্দী) চক্রবর্তী এবং অঙ্কুর চতুর্বেদী।
জাতীয় সংগীত গানের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন কে. পি. খেমকার, অতুল সিংহ, বিভোর ট্যান্ডন প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্যের সারবস্তু হিসেবে উঠে আসে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের খামখেয়ালিপনা এবং বজ্রপাত জনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলার মতো অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়গুলি। রাজস্থানের চুরূ-সহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে পারদ ইতিমধ্যেই ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছুঁয়েছে। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বারংবার স্থিতিশীল উন্নয়ন (সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট) এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও অপুনর্ভব সম্পদের পরিমিত ব্যবহারের প্রসঙ্গের ওপর জোর দেন। তাঁদের বক্তব্যের সপক্ষে স্মিতা পাণ্ডে ব্যক্তি চেতনার উন্মেষের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বক্তা পরিবেশবিদ ডঃ স্বাতী (নন্দী) চক্রবর্তী বলেন, এল নিনোর প্রভাবে এবছর ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক হারে উষ্ণতা বেড়েছে। এদিনের আলোচনায় কার্বন নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা, কার্বনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পন্থা এবং ক্লোরোফ্লুরো কার্বনের (সিএফসি) ব্যবহার হ্রাসের মতো বিষয়গুলি উঠে আসে। পাশাপাশি, কার্বন ক্রেডিটের মতো আধুনিক পদ্ধতি কীভাবে পরিবেশ রক্ষার বিকল্প হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, সেই বিষয়টিও তিনি নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন অপর প্রধান বক্তা অঙ্কুর চতুর্বেদী। তাঁর বক্তব্যে মূলত কর্পোরেট ক্ষেত্রে স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকটি উঠে আসে। কর্পোরেট স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় রাখা সম্ভব, সেই যুৎসই পদ্ধতিগুলি তিনি তুলে ধরেন। একে একে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত সকলের সামনে ‘মন্ত্রাস ফাউন্ডেশন’-এর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। পরিশেষে, সকলকে পরিবেশ রক্ষার ব্রতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই আলোচনা সভার ইতি ঘটে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক