(আপডেট) বিজেপি ছেড়ে ‘উই দ্য পিপল’ আন্দোলনের ঘোষণা আন্নামালাইয়ের, গড়ছেন নতুন রাজনৈতিক দল
চেন্নাই, ৫ জুন (হি.স.): তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়সড় রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিলেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই। বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা করার পরই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ও গণআন্দোলনের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। তাঁর নত
(আপডেট) বিজেপি ছেড়ে ‘উই দ্য পিপল’ আন্দোলনের ঘোষণা আন্নামালাইয়ের, গড়ছেন নতুন রাজনৈতিক দল


চেন্নাই, ৫ জুন (হি.স.): তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়সড় রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিলেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই। বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা করার পরই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ও গণআন্দোলনের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। তাঁর নতুন উদ্যোগের নাম ‘উই দ্য পিপল’ ।

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে লাইভ বার্তায় আন্নামালাই জানান, এটি কোনও ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন। এর লক্ষ্য রাজনীতিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।

এর আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং জানান, আন্নামালাইয়ের দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের আবেদন গ্রহণ করেছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ২ জুন লেখা পদত্যাগপত্রে আন্নামালাই উল্লেখ করেছিলেন, তামিলনাড়ুতে প্রবৃদ্ধিমুখী ও সংস্কৃতিভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ভাবনাচিন্তা রয়েছে এবং সেই পথেই তিনি এগোতে চান।

লাইভ বার্তায় আন্নামালাই জানান, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন আদর্শগত ও সাংগঠনিক বিষয়ে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি দলকে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তবে দলের অনুরোধে নির্বাচনী দায়িত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে তাঁর বিশ্বাস সবসময় নীতি, আদর্শ এবং জনসেবাকে কেন্দ্র করে। কর্নাটকে আইপিএস অফিসার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি শিখেছিলেন, ক্ষমতা, পদ কিংবা কর্তৃত্ব কোনওটাই স্থায়ী নয়। সেই উপলব্ধিই তাঁকে রাজনীতিতেও ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে আন্নামালাই বংশানুক্রমিক রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে সুযোগ কোনও নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, “আমি কোনও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য নই। সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে এসে এখানে পৌঁছেছি। তাই সমাজের প্রতিটি যোগ্য মানুষের সামনে রাজনীতির দরজা খোলা থাকা উচিত।”

নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি জানান, শুধু বিধানসভা নির্বাচন নয়, পঞ্চায়েত, পুরসভা, লোকসভা-সহ সমস্ত নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে দল। তামিলনাড়ুর মানুষের সামনে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলাই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

আন্নামালাই বলেন, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রশাসন নিশ্চিত করাই তাঁর নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের অগ্রাধিকার। জনগণ এখন শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফলাফল চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতেই তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই।

সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁর ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই wetheleader.org ওয়েবসাইট চালু হবে। সেখানে নিবন্ধন করে যে কেউ এই আন্দোলনের অংশ হতে পারবেন। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজেপি ছাড়লেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন আন্নামালাই। তিনি বলেন, সাংগঠনিক কৌশল বা রাজনৈতিক ইস্যুতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্ব, কর্মপদ্ধতি এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি তাঁর সম্মান অটুট থাকবে।

নতুন দলের আদর্শগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তামিল পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ভারতের সামগ্রিক জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের ভাবনাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এই ভাবনাকে ‘দ্রাবিড় ২.০’ হিসেবে তুলে ধরছেন, যেখানে আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা থাকবে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, নতুন দল সব সম্প্রদায়, সামাজিক গোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে নিয়ে চলার নীতি গ্রহণ করবে। সমন্বিত উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করাই হবে দলের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই একে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বৃহত্তর জনভিত্তিক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্নামালাইয়ের এই পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, যুবসমাজের মধ্যে জনপ্রিয়তা এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক শৈলী তাঁকে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এখন নজর থাকবে, তাঁর নতুন দল আগামী নির্বাচনে কী কৌশল গ্রহণ করে এবং রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande