(আপডেট) সুরক্ষিত সীমান্তই বিকশিত ভারতের ভিত্তি : অমিত শাহ
ত্রিপুরায় ১১৯ কিমি কাঁটাতার সংস্কারে ছাড়পত্র
বিএসএফ জওয়ানদের সাথে অমিত শাহ


আগরতলা, ৫ জুন (হি.স.) : অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানব পাচার ও মাদক কারবার রোধে দেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখা নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার ত্রিপুরার লঙ্কামুড়া সীমান্ত চৌকি পরিদর্শনে গিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র জওয়ানদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, ত্রিপুরার ১১৯ কিলোমিটার পুরনো কাঁটাতারের বেড়া সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ের কাজও শুরু হয়েছে।

দু’দিনের ত্রিপুরা সফরে এসে শুক্রবার দুপুরে রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন লঙ্কামুড়া বিএসএফ সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, সীমা প্রবন্ধক বিভাগের সচিব, বিএসএফ-র মহানির্দেশক (ডিজি) এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে লঙ্কামুড়া বিএসএফ চৌকিতে একটি আগরগাছের চারা রোপণ করেন অমিত শাহ। পরে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরা তিনদিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় রাজ্যটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়ার অধিকাংশই ১৫ বছরেরও বেশি পুরনো। এর মধ্যে ১১৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে সংকল্প নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হল একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত দেশ গড়ে তোলা। তাঁর কথায়, “এই নিরাপত্তা কোনও যুদ্ধের জন্য নয়, বরং চোরাচালান, মানব পাচার, মাদক বিস্তার এবং কালো টাকার প্রবাহ রোধের জন্য। দেশের যুব সমাজকে নেশার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

অমিত শাহ আরও বলেন, অনুপ্রবেশ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএসএফসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জওয়ানদের উদ্দেশে বলেন, “অনুপ্রবেশ রোধ করে দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখাই আপনাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।”

সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে কেন্দ্র সরকার স্মার্ট ফেন্সিং এবং ‘চতুর্ভুজ বলয়’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে সীমান্তে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত জওয়ানরা আরও সুবিধা পান।

লঙ্কামুড়া সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা এবং জওয়ানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানব সমাজের উন্নয়নের জন্য আমরা প্রকৃতির যে ক্ষতি করেছি, তার ক্ষতিপূরণ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশকে বাসযোগ্য রাখতে হলে ব্যক্তি থেকে সমাজ—সকল স্তরে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি দেশবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande