
কদমতলা (ত্রিপুরা), ৫ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর এলাকায় মসজিদ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জনৈক ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা, মারধর এবং তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় আহত ফখর উদ্দিন কদমতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে বিষ্ণুপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামে মসজিদে মসজিদ কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ ফখর উদ্দিন বর্ডার রোড দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। কী ঘটছে তা দেখতে তিনি এগিয়ে গেলে একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
ফখর উদ্দিনের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরেই তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগে তিনি এলাকার বাসিন্দা ইয়াসিন আলী, আব্দুল হাবিজ, আব্দুল শফিক, আব্দুল শহীদ, আব্দুল ওয়াহিদ, আব্দুল মুমিন, আব্দুল হান্নান এবং আব্দুর রকিবের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
ঘটনার পেছনে একটি পূর্ববর্তী ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে মসজিদের ইমাম বদরুল ইসলামের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সময় তিনি ঘটনাটি দেখে অভিযুক্তদের বাধা দেন এবং এমন কাজ ইসলামবিরোধী বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে ৯ মে অনুষ্ঠিত একটি মসজিদ কমিটির বৈঠকে তাঁকে সাক্ষ্য দিতে বলা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে অভিযোগ।
ফখর উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁর হাত থেকে প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি নতুন স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করা এবং যোগাযোগের পথ বন্ধ করতেই এই কাজ করা হয়েছে।
হামলার পর আহত অবস্থায় তিনি কদমতলা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার পর বিষ্ণুপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ