
আগরতলা, ৫ জুন (হি.স.) : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শুক্রবার একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করে ত্রিপুরা শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। দিবসটি উপলক্ষ্যে কমিশনের উদ্যোগে জিরানিয়া মহকুমার পাঁচটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে অংশ নেন ত্রিপুরা শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা, কমিশনের অন্যান্য সদস্য-সদস্যারা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, শিশু এবং তাঁদের অভিভাবকরা। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরা হয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষের উপকারিতা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে অবহিত করা হয়।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর কমিশনের প্রতিনিধিরা নরসিংগড়স্থিত বৃদ্ধাশ্রম এবং অভয়নগর শিশু হোমেও বৃক্ষরোপণ করেন। সেখানে আবাসিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কমিশনের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য ক্রমশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপনের দিন নয়, বরং পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার দিন। সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতেই কমিশনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।”
দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ