
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৫ জুন (হি.স.) : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে জনঅসন্তোষ। শহরের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমান ট্রাফিক ইনচার্জ নিবাস চন্দ্র দাস দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই অসম-আগরতলা জাতীয় সড়কের তেলিয়ামুড়া শহর সংলগ্ন বিভিন্ন অংশে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা, অম্পি চৌমুহনীসহ ব্যস্ততম মোড়গুলিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন এবং নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের চাপে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পথচারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, যাত্রী এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী—সকলেই প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঝে মধ্যে একজন এসপিও বা কনস্টেবল মোতায়েন করা হলেও এত বিস্তীর্ণ এলাকায় একজন কর্মীর পক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কার্যত অসম্ভব। ফলে পরিস্থিতি দিনের পর দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা দেখা যায় সপ্তাহের দুই হাটবার—সোমবার ও শুক্রবার। ওই দিনগুলোতে তেলিয়ামুড়া ফল বাজার থেকে অম্পি চৌমুহনী পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দুই ধারে শত শত টমটম ও অটোরিকশা অবৈধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে জাতীয় সড়কের একটি বড় অংশ কার্যত অস্থায়ী যানবাহন স্ট্যান্ডে পরিণত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, দমকল বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার যানবাহন যানজটে আটকে পড়লে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, অতীতে তেলিয়ামুড়ায় একাধিক ট্রাফিক ইনচার্জ দায়িত্ব পালন করলেও ট্রাফিক ব্যবস্থার এমন বেহাল দশা কখনও দেখা যায়নি। তাঁদের মতে, বর্তমান ট্রাফিক প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি এবং কার্যকর পরিকল্পনার অভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে ট্রাফিক বিভাগের অভ্যন্তর থেকেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলেও বেশ কয়েকজন এসপিও ও কনস্টেবলকে অফিসের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রাখা হচ্ছে। ফলে শহরের ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক কাজ না থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মীকে সেখানে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উপর।
এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীর প্রশ্ন, ক্রমবর্ধমান যানজট ও অব্যবস্থার দায়ভার কে নেবে? প্রতিদিন জাতীয় সড়কে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা কি প্রশাসনের নজরে পড়ছে না, নাকি সব দেখেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে?
তবে এ বিষয়ে ট্রাফিক ইনচার্জ নিবাস চন্দ্র দাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নিয়মিতভাবে কাজ করছেন। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাঁদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হলে মাঠে নেমে সরেজমিনে পরিদর্শন করলেই ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ