অসমের পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ, বাজেটে ‘অসম মালা-৪’ থেকে হাইস্পিড করিডরস্ সরকারকে সাধুবাদ বিজেপির
গুয়াহাটি, ১৬ জুলাই (হি.স.) : ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে অসমের পরিকাঠামো, শিল্পায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্প ঘোষণা করেছে হিমন্তবিশ্ব শর্মা সরকার। এবারের বাজেট আগামী পাঁচ বছরে অসমকে দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্র হিসেবে গ
বাজেট_প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র


গুয়াহাটি, ১৬ জুলাই (হি.স.) : ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে অসমের পরিকাঠামো, শিল্পায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্প ঘোষণা করেছে হিমন্তবিশ্ব শর্মা সরকার। এবারের বাজেট আগামী পাঁচ বছরে অসমকে দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি করেছে বলে দাবি করেছে প্রদেশ বিজেপি।

আজ বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে প্রেরিত এক বিবৃতিতে দলের মিডিয়া প্যানেলিস্ট আশিস ভরালি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া যে বাজেট পেশ করেছেন, তা অসমের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ‘অসম মালা’ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে প্রায় ৩,২১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যের ৩৪টি জেলায় ৮৮০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৪টি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এবার ‘অসম মালা-৪’ প্রকল্পে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার আওতায় আরও ৮০০ কিলোমিটার প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে।

পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাজেটে গুয়াহাটি-শিলচর হাইস্পিড ইকোনমিক করিডর নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। এই করিডর চালু হলে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় বর্তমানের প্রায় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ৫ ঘণ্টায় নেমে আসবে। পাশাপাশি গুয়াহাটি-শিলিগুড়ি হাইস্পিড করিডর নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

পর্যটন ক্ষেত্রের বিকাশে উমরাংসো পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, মানস জাতীয় উদ্যান, হাফলং এবং উমরাংসোতে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের অনুমোদনও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিমান যোগাযোগের উন্নয়নে ধুবড়ির রূপসী বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ এবং শিলচরের ডলু গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, রূপসী বিমানবন্দরের উন্নয়নের ফলে ধুবড়ি ও কোকরাঝাড় জেলার পাশাপাশি ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

এছাড়া গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে জালুকবাড়ি পর্যন্ত একটি উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দর থেকে জালুকবাড়ি পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৭ থেকে ১০ মিনিট।

সবুজ শক্তি উৎপাদনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেটে কার্বি আংলং এবং ডিমা হাসাও জেলায় পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার প্রকল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শহুরে উন্নয়নের অংশ হিসেবে গুয়াহাটি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ‘এরো সিটি’ নির্মাণ এবং গুয়াহাটিতে একটি আধুনিক স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলার ঘোষণাও করা হয়েছে।

আশিস ভরালি বলেন, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর হিসেবে গুয়াহাটির নতুন পরিচয় গড়ে উঠবে। আরও বলেন, এই বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পগুলি শুধু যোগাযোগ ও পরিকাঠামোর উন্নয়নই নয়, শিল্প, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার উন্মোচন করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande