

কলকাতা/নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (হি.স.): রথযাত্রার সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিক। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ১০১ দিনের মাথায় সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা পড়ার খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। যদিও পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পদত্যাগের খবর সামনে আসার পাশাপাশি এ দিনই নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে কোয়েল মল্লিকের উপস্থিতির খবরও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে সেটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি। ফলে এই সাক্ষাৎ এবং পদত্যাগ—দুই ঘটনাকে ঘিরেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তালিকার অন্যতম চমক ছিল কোয়েল মল্লিকের নাম। দীর্ঘদিন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে রাজ্যসভার মাধ্যমে। মার্চে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর ৬ এপ্রিল সংসদ ভবনে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। তখন তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি ছিল, সাংস্কৃতিক পরিসরের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরদার করতেই তাঁকে উচ্চকক্ষে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু শপথ নেওয়ার মাত্র ১০১ দিনের মধ্যেই তাঁর আকস্মিক পদত্যাগ একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বুধবার পর্যন্তও রাজ্যসভার সরকারি ওয়েবসাইটে তৃণমূলের সাংসদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। বৃহস্পতিবার সেই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ঘুরতে শুরু করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের আগে রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়েছেন প্রকাশ চিক বরাইক। এর আগে সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবও রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃণমূলের একাধিক রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ দলীয় অন্দরের সমীকরণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আগামী বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কোয়েল মল্লিকের এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে এবং এই পদত্যাগের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি এখন অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য