
কলকাতা, ১৬ জুলাই (হি স)। কালীঘাট-তৃণমূলে
দল ছাড়ার হিড়িকে দলত্যাগে পা বাড়ানোদের বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেঁধে দিলেন সময়সীমা। তাঁর কথায় অনেকে ইঙ্গিত পাচ্ছেন, তৃণমূল পালিত শহিদ দিবসের দিন থেকেই নতুন করে দল গড়তে উদ্যোগী হচ্ছেন তিনি।
এদিন মমতা ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘‘ইডি, সিবিআই বা বিজেপি বিভিন্ন রকম চাপের মুখে যাঁদের যাওয়ার আছে, তাঁদের অনুরোধ করছি ২১ জুলাইয়ের আগে চলে যান। লোটাকম্বল নিয়ে চলে যান।’’
বুধবার মদন মিত্র বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন কোয়েল মল্লিক। দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি।
বক্তব্যের একেবারে শেষে মমতার বক্তব্যের একটি অংশ তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি বলছে নামও রাখব না, নিশানও রাখব না। অনেক দল অনেক বার প্রতীক বদল করেছে।’’ বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি যোগ করেন, ‘‘ক্ষমতার জোরে দলের নামও পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু তার ভাবনা, লক্ষ্য, দৃষ্টিভঙ্গি বদল করা যায় না।’’
বুধবার মদন মিত্র মমতার হাত ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবিরে। পরের দিনই পদত্যাগের পর কোয়েল মল্লিককে দেখা গেল দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। এর আগেও তৃণমূলের লোকসভার সাংসদেরা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার আগে বৈঠক করেছিলেন ভূপেন্দ্রবাবুর সঙ্গে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘দেখলাম আরও এক সাংসদ, চলচ্চিত্রশিল্পী বিজেপির এক নেতার সঙ্গে মিটিং করে পদত্যাগ করলেন। তিনি আগেই পদত্যাগের ইমেল পাঠিয়েছিলেন। এখন সশরীরে গিয়ে পদত্যাগ করেছেন।’’ কোয়েলের নাম না করে তাঁর পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেই মমতা দল ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি বলেন, ‘‘এতে আমরা দুর্বল হব না’’।
বুধবারের পর বৃহস্পতিবারেও মমতা বলেছেন, ‘‘যাঁরা থাকবেন তাঁরাই সোনার খনি।’’ তাঁর পাল্টা দাবি, যাঁরা দল ছাড়ছেন, তাঁদের অনেকেই গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও রাখছেন। তৃণমূলে ভাঙনের জন্য বিজেপির দিকে আক্রমণ বজায়ও রেখেছেন মমতা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত