
ইমফল, ১৬ জুলাই (হি.স.) : মণিপুরের ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে চলমান তোলাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহের কাছে দাবি জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম ও এলপিজি পরিবহণকারী সংগঠনগুলি। তারা সতর্ক করে দিয়েছে, তোলা-সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ৩১ জুলাই থেকে জ্বালানি পরিবহণ পরিষেবা বন্ধ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত এক স্মারকপত্রে অল মণিপুর পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস ট্রান্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সহ মোট নয়টি পরিবহণ সংগঠন অভিযোগ করেছে, ইমফল ও জিরিবামের মধ্যে জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারগুলিকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করতে হলেও অবৈধভাবে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সংগঠনগুলির দাবি, ২০২৩ সালের মে মাসে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে ইমফল-জিরিবাম ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কপথে পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিকেন্ট এবং এলপিজি ট্যাংকারগুলি নিরাপত্তা বাহিনীর এসকর্টে চলাচল করছে।
স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি কনভয়ে প্রায় ১০০টি ট্যাংকার থাকে, সেগুলির কাছ থেকে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কথিত ‘লুটেরারা’ অবৈধ কর তথা তোলা আদায় করছে। পরিবহণকারীদের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাবিকৃত টাকার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে প্রতি ট্রাক থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হত, কিন্তু এখন তা বেড়ে প্রতি ট্রাকে ৭ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। সংগঠনগুলি জানিয়েছে, তারা বারবার এই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে তোলাবাজি অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা বহুবার এই চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলেছি, অথচ এখনও তা চলছে। পরিবহণকারীরা আর এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে পারছেন না।’
সংগঠনগুলির দাবি, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে এই অবৈধ তোলা-আদায় বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ৩১ জুলাই থেকে ওই সড়কে পেট্রোলিয়াম ও এলপিজি ট্যাংকার চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস