চারশো বছরের ঐতিহ্যে লালগড় রাজবাড়ির রথযাত্রা, বিশেষ ভোগে ভক্তদের ভিড়
ঝাড়গ্রাম, ১৬ জুলাই (হি.স.): ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় রাজপরিবারের কুলদেবতা রাধামোহন জিউর রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শতাব্দীপ্রাচীন রীতি মেনে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক পর্যায়ে দেবতার উদ্দেশ
চারশো বছরের ঐতিহ্যে লালগড় রাজবাড়ির রথযাত্রা, বিশেষ ভোগে ভক্তদের ভিড়


ঝাড়গ্রাম, ১৬ জুলাই (হি.স.): ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় রাজপরিবারের কুলদেবতা রাধামোহন জিউর রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শতাব্দীপ্রাচীন রীতি মেনে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক পর্যায়ে দেবতার উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রাচীন এই ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকতে এদিন লালগড়ে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত।

রাজপরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবুপাড়ার মন্দিরে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। এরপর বাল্যভোগ হিসেবে চিঁড়ে, দুধ, আখের গুড়, বিভিন্ন ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। তারপর শুরু হয় বিশেষ ভোগ প্রস্তুতির কাজ। কাঠের উনুনে পিতলের হাঁড়ি ও লোহার কড়াই ব্যবহার করে বহু প্রাচীন নিয়ম মেনে মন্দিরের রাঁধুনিরা ভোগ রান্না করেন।

দুপুরের ভোগে ছিল আট রকম ভাজা, পোস্ত বড়া, আতপ চালের অন্নভোগ, গাওয়া ঘিয়ের পোলাও, পঞ্চব্যঞ্জন, পোস্ত দিয়ে পুনকা শাক, মুলোর ঘণ্ট, আলু-পটলের চচ্চড়ি, কাঁচামিঠে আমের চাটনি এবং পায়েস। বিকেলে আম, কলা ও কাঁঠালের ফলার ভোগ নিবেদনের পর রাধামোহন জিউ, শ্রীমতী ও পার্ষদ দেবদেবীদের সোনার অলঙ্কারে সজ্জিত করে রথতলায় আনা হয়।

সুসজ্জিত রথে দেববিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পর ছানা, ফল ও মিষ্টির নৈবেদ্য নিবেদন এবং আরতির পর শুভক্ষণে হাজার হাজার ভক্ত রথের রশিতে টান দেন। চারশো বছরেরও বেশি পুরনো প্রথা মেনে রথটি হাটচালায় অবস্থিত 'মাসির বাড়ি'-র উদ্দেশে রওনা দেয়। রথযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

মাসির বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে মিছরির শরবত নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যারতির পর রাতের ভোগে লুচি, ছোলার ডাল, বিভিন্ন নিরামিষ পদ এবং ছানার পায়েস নিবেদন করা হয়। আগামী আট দিন রাধামোহন জিউ, শ্রীমতী ও পার্ষদ দেবদেবীরা মাসির বাড়িতেই অবস্থান করবেন। উল্টো রথের দিন তাঁরা পুনরায় মূল মন্দিরে ফিরে আসবেন।

লালগড় রাজপরিবারের বর্তমান সেবাইত তথা রাজপরিবারের ১৬তম উত্তরসূরি দর্পনারায়ণ সাহসরায় জানান, কয়েক শতাব্দী ধরে একই রীতি ও আচার মেনে এই রথযাত্রা পালিত হয়ে আসছে। তাঁর কথায়, রাজপ্রাসাদের আগের জৌলুস আজ আর নেই, কিন্তু কুলদেবতার রথযাত্রা, ভোগ-নৈবেদ্য এবং প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় আজও কোনও খামতি রাখা হয় না।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande