
আরামবাগ , ১৬ জুলাই (হি.স.): ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্রে পরিণত হল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র রথযাত্রা উপলক্ষে কামারপুকুর। বৃহস্পতিবার বিকালে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রাঙ্গণ থেকে সুসজ্জিত জগন্নাথদেবের রথ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। রথের দড়ি টানতে এবং প্রভুর দর্শন পেতে মঠ প্রাঙ্গণে ভিড় জমান হাজার হাজার ভক্ত।
রথটি মঠ থেকে বেরিয়ে প্রথমে কামারপুকুর চটি এলাকায় পৌঁছায়। এরপর সমগ্র কামারপুকুর পরিক্রমা করে পুনরায় নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে আসে। রথের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলেন বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবক-যুবতী ও শিশুরা। সকলের একটাই বিশ্বাস—জগন্নাথদেবের রথের দড়ি টানতে পারলে জীবনে মঙ্গল ও শুভ ফল লাভ হয়।
রথযাত্রার পুরো পথজুড়ে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় হরিনাম সংকীর্তন। করতাল, মৃদঙ্গ ও খোলের তালে তালে জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কামারপুকুর। ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও নামসংকীর্তনের আবহে যেন আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রথের দু'ধারে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ প্রভুর দর্শন করেন এবং ফুল, ফল ও প্রণাম নিবেদন করেন।
কামারপুকুর, যা ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মভূমি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, সেই পবিত্র ভূমিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা প্রতি বছরই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এবং দূরদূরান্ত থেকেও বহু ভক্ত এই রথযাত্রায় অংশ নিতে কামারপুকুরে এসে উপস্থিত হন। তাঁদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা উৎসবের রঙে সেজে ওঠে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে কামারপুকুরে ছিল উৎসবের আমেজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকরাও ভক্তদের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ভক্তদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভক্তি ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদ লাভের আশায় এবং ভক্তির আবেগে অগণিত মানুষের অংশগ্রহণে এবারের কামারপুকুরের রথযাত্রা হয়ে উঠল এক স্মরণীয় ও প্রাণবন্ত ধর্মীয় উৎসব।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA